একটি স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে সামনে আসছে একের পর এক নতুন দাবি। এতদিন ঘটনাটিকে রাজনৈতিক চাপ বা চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে যে আলোচনা চলছিল, এবার তার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি জানালেন, ঘটনার পেছনে আসলে ছিল জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ। একই সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে ন্যায়বিচারের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ভেতরে দুই পক্ষের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরেই সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিউ গিনি প্রোপার্টিজের সংলগ্ন এলাকায় সাবেক কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার মোট ২৩ কাঠা জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ কাঠা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সাবেক কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অতীতে প্রভাব বিস্তার করে ওই ৮ কাঠা জমি নিউ গিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দীন দখল করেছেন।
রাশেদ খাঁনের দাবি, সম্প্রতি নাজিম উদ্দীনের কাছ থেকে প্রায় ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ভাড়া নিয়ে সেখানে স্টুডিও তৈরি করেন সালমান মুক্তাদির। এরপর নিউ গিনি প্রোপার্টিজের পক্ষ থেকে নতুন তিনটি গেট নির্মাণ করা হয়। সাবেক জমির মালিকদের অভিযোগ, এসব গেট এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে তারা নিজেদের জমিতে প্রবেশ করতে না পারেন।
এই বিরোধ থেকেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেছেন রাশেদ খাঁন। তার ভাষ্য, ক্ষুব্ধ পক্ষ লোকজন নিয়ে গেট ভাঙতে গেলে নাজিম উদ্দীনের সম্পদ মনে করে ভুলবশত সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। তিনি ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন। রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, জমি দখল ও পাল্টা দখলের এই বিরোধের সঙ্গে বিএনপি কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নেই। তার মতে, যারা আইনগত পথে না গিয়ে শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছেন, তাদের কর্মকাণ্ডের দায় রাজনৈতিক দলের ওপর চাপানো ঠিক নয়।
সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্য নিয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি। রাশেদ খাঁনের দাবি, পুরো ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য জানার আগেই সালমান মুক্তাদির ঘটনাটিকে বিএনপির লোকজনকে চাঁদা না দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাই বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে জেনে সত্যতা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নও তৈরি হয়েছে—স্টুডিও ভাঙচুরের প্রকৃত কারণ কী, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি কতটা সত্য এবং হামলার সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন?
রাশেদ খাঁন তার পোস্টে সালমান মুক্তাদিরের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বলেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের একজন যোদ্ধা হিসেবে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তারা ব্যথিত। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের যথাযথ শাস্তির আওতায় আনা হবে এবং সালমান মুক্তাদির ন্যায়বিচার পাবেন। এখন এই ঘটনায় জমি মালিকানা বিরোধ, স্টুডিও ভাঙচুর এবং রাজনৈতিক অভিযোগ—তিনটি বিষয়ই সামনে এসেছে। প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং আইনগত তদন্তের ফলই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন