সরকারি ভবনের খালি ছাদ এবার কাজে লাগাতে বড় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোন কোন সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানো সম্ভব, তা দ্রুত শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিবদের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সরকারি ভবনগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই করে জরুরি ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, যেসব সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপন করা সম্ভব, সেসব ভবনের সংখ্যা এবং প্যানেল বসানোর উপযোগী ছাদের পরিমাণ বা আয়তন নির্ধারণ করতে হবে। এরপর এসব তথ্য সমন্বয় করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের কাছে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি স্থাপনাগুলোর ছাদকে ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের ভবনের ছাদে দিনের বড় একটি সময় সূর্যের আলো পাওয়া যায়। এসব জায়গায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা গেলে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।
এতে একদিকে সরকারি ভবনগুলোতে বিদ্যুতের বিকল্প উৎস তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুতের অংশ বাড়ানোর পথও আরও প্রসারিত হতে পারে। এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নিজেদের অধীন সরকারি ভবনগুলো চিহ্নিত করে ছাদের আয়তন এবং সৌর প্যানেল স্থাপনের উপযোগিতা যাচাই করতে হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই তথ্য বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো হবে।
তবে কোন কোন ভবনে শেষ পর্যন্ত সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে, কত পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে এবং প্রকল্পটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে—এসব বিষয় পরবর্তী ধাপে নির্ধারণ করা হবে। সব মিলিয়ে, সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরিধি আরও বাড়তে পারে। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি ভবনগুলোর তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ কতটা দ্রুত এগোয়, সেটিই দেখার বিষয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন