ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের কড়া সমালোচনা নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেওয়া ভাষণ ঘিরে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও নেতানিয়াহুর
  • আপলোড সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১৫ সময়
  • আপডেট সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১৫ সময়
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের কড়া সমালোচনা নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেওয়া ভাষণ ঘিরে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও নেতানিয়াহুর মধ্যে নতুন করে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। নেতানিয়াহুর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মামদানি অভিযোগ করেছেন, ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ ছড়িয়ে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করার চেষ্টা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।


গত বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহুর ভাষণের পরপরই এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানান মামদানি। এর আগে থেকেই নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত মামদানি। গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রসঙ্গ তুলে তিনি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বানও জানিয়েছিলেন। এর জবাবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ৩৪ বছর বয়সী নিউইয়র্কের মেয়রকে সরাসরি আক্রমণ করেন নেতানিয়াহু।


নেতানিয়াহু মামদানিকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দেন এবং দাবি করেন, মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার পর নিউইয়র্কে ইহুদিরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। পাল্টা বিবৃতিতে মামদানি বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যাকে বৈধতা দেওয়ার জন্যই জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করেছেন নেতানিয়াহু। তার ভাষ্য, কোনো বক্তব্য বা দাবি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি মুছে দিতে পারে না।


অন্যদিকে নেতানিয়াহু তার ভাষণে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি এই অভিযোগকে ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন। একই ভাষণে মামদানির স্ত্রী রামা দুয়াজির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পুরোনো বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তবে জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না মামদানি। ওই সময় নিজের সরকারি বাসভবনে জলপাইগাছের চারা রোপণ এবং গাজার কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের সঙ্গে নৈশভোজের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওটির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ যেন শান্তির হয়।’


নেতানিয়াহু ও মামদানির এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এখন জাতিসংঘের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন ঘিরেও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, লিকুদ পার্টির নির্বাচনী প্রচারণায় মামদানির ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বিভিন্ন ভিডিওতেও তাকে জড়িয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


মামদানির মিত্র ও ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার মন্তব্য করেছেন, নেতানিয়াহুর এমন রাজনৈতিক কৌশল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি ইহুদিদের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। এভাবে জাতিসংঘের মঞ্চে নেতানিয়াহুর বক্তব্য এবং তার পরপরই মামদানির পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় গাজা যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং নিউইয়র্কে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘দাঁড়াও, এখানে কী করো তুমি?’—সিএনএন সাংবাদিককে ট্রাম্প

‘দাঁড়াও, এখানে কী করো তুমি?’—সিএনএন সাংবাদিককে ট্রাম্প