বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ছয় দল নিয়ে নতুন কাঠামোর টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিগুণ করা হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দৈনিক ভাতা। শুধু তাই নয়, বগুড়ায় দ্রুত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতেও নেওয়া হয়েছে নতুন উদ্যোগ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সভায় ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো পুনর্গঠন, মাঠের সুযোগ-সুবিধা উন্নয়ন এবং ক্রিকেটারদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছয়টি দল নিয়ে একটি বিশেষ টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। এই কাঠামোর আওতায় থাকবে তিন ধরনের ক্রিকেট—চার দিনের প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, এক দিনের ক্রিকেট এবং টি-টোয়েন্টি। প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য দলগুলোর মালিকানা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কাঠামোর প্রথম আসর হিসেবে টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, যা আগামী ডিসেম্বরে মাঠে গড়াতে পারে।
ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্রিকেটারদের জন্যও এসেছে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির খবর। ছেলেদের চার দিনের ক্রিকেটে প্রতি ম্যাচের ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। এক দিনের ক্রিকেটে এক লাখ টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা করে পাবেন ক্রিকেটাররা। জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচ ফি হবে ১৫ হাজার টাকা। মেয়েদের ঘরোয়া ক্রিকেটেও বাড়ানো হয়েছে ম্যাচ ফি। তিন দিনের ম্যাচে ৪০ হাজার টাকা, এক দিনের ম্যাচে ৩০ হাজার টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ২০ হাজার টাকা করে ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দৈনিক ভাতায়। আগে যেখানে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা দেওয়া হতো, এখন তা বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ তরুণ ক্রিকেটারদের দৈনিক ভাতা দ্বিগুণ করা হয়েছে। ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ ও ফিটনেস কার্যক্রমের সুযোগ বাড়াতেও উদ্যোগ নিয়েছে বোর্ড। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে আন্তর্জাতিক মানের এবং আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের অনুমোদিত তিন লেনের দৌড়ের ট্র্যাক নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ট্র্যাক ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ ও ফিটনেস কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও বাড়ানো হচ্ছে সুযোগ-সুবিধা। দুটি বিকল্প ড্রেসিং রুম, খেলোয়াড়দের প্রবেশপথ এবং সাধারণ লবি এলাকার উন্নয়নকাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুটি নতুন ড্রেসিং রুম নির্মাণ করা হবে। এগুলো ঘরোয়া টুর্নামেন্ট, অনুশীলন ম্যাচসহ বিভিন্ন ক্রিকেট কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।
এর ফলে প্যাভিলিয়ন ভবনের বর্তমান ড্রেসিং রুমগুলো মূলত আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম নিয়েও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। স্টেডিয়ামটির সংস্কার ও উন্নয়নকাজের জন্য ভবন, প্রকৌশল এবং প্রকল্প প্রস্তুতি বিষয়ে পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সংস্কারকাজ শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর লক্ষ্য রয়েছে বোর্ডের। সব মিলিয়ে নতুন টুর্নামেন্ট কাঠামো, বাড়তি ম্যাচ ফি, তরুণ ক্রিকেটারদের ভাতা বৃদ্ধি এবং মাঠের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন