সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাতভর একের পর এক সতর্কতা, এরপর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দেখা গেল আগুনের শিখা আর আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডুলি। এর কয়েক ঘণ্টা পরই রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতিরা। শনিবার হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, রিয়াদের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু শহরে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেন তিনি। তবে রিয়াদের ঠিক কোন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করেননি হুতিরা।
হুতিদের দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার জবাবেই এসব আক্রমণ চালানো হয়েছে। এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোররাতে রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশা, ফারাসান, তায়িফ ও ইয়ানবুতেও হুতিদের হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে তারা।
রিয়াদে রাতের মধ্যে দুই দফা জরুরি সতর্কতা জারি করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানান। পরে বিমানবন্দরের কাছ থেকে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের জুলাই থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও স্থাপনায় হামলার দাবি করে আসছে হুতিরা। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর রিয়াদে হামলার দাবি এবারই প্রথম বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
এদিকে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইয়ানবুর মতো গুরুত্বপূর্ণ তেলকেন্দ্রকে ঘিরে হামলার দাবি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন প্রশ্ন হলো—রিয়াদে হুতিদের এই হামলার দাবি কতটা বাস্তব ক্ষয়ক্ষতিতে রূপ নিয়েছে এবং এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট কী পদক্ষেপ নেয়। পরিস্থিতির পরবর্তী developments-এর দিকেই নজর রাখছে পুরো অঞ্চল।
সূত্র: রয়টার্স ও আলজাজিরা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন