গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর এবার বড় ধরনের সমঝোতার পথে এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক। দ্বীপটির নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির বিষয়টি সামনে আসার পরই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে। তার দাবি, চুক্তিটি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অতিরিক্ত খরচ হবে না।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা পাবে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিনিয়োগ করতে পারবে না। তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্ত নিয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী। মেটে ফ্রেডেরিকসেন শুধু জানিয়েছেন, এই চুক্তি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের যৌথ নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন, সমঝোতার মাধ্যমে ডেনমার্কের রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে বেশ কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা চলছিল। কৌশলগত অবস্থান, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিপুল খনিজ সম্পদের গুরুত্ব বিবেচনায় দ্বীপটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগ্রহের কথা বারবার জানিয়েছেন ট্রাম্প।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন এই চুক্তি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে চুক্তির প্রকৃত শর্ত, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমা এবং গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনের ওপর এর প্রভাব কতটা হবে—তা স্পষ্ট হবে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি প্রকাশ ও সই হওয়ার পর।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন