বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশ কেন খেলতে গেল না—এবার সেই সিদ্ধান্তের দায় নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তদন্ত প্রতিবেদনে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও নিজের সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করছেন না তিনি। বরং এতদিন পর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন কেন হলো, সেটিই জানতে চেয়েছেন। মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে প্রকাশ করা হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন। কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ। সদস্য ছিলেন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার এবং আইনজীবী ফয়সাল দস্তগীর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আসর বর্জনের সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির নেওয়া সমীচীন নয়। যদিও প্রতিবেদনে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি, সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সদস্য ফয়সাল দস্তগীর জানান, ‘একজন ব্যক্তি’ বলতে তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকেই বোঝানো হয়েছে। তবে কমিটির প্রধান এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ বলেন, এটি ছিল সরকারের সিদ্ধান্ত। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন আসিফ নজরুল। তিনি জানান, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত মূলত তারই ছিল এবং বিষয়টি তিনি আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। তাই এতদিন পর বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত করে তা ঘটা করে প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আসিফ নজরুলের দাবি, বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এরপর ভারতে বাংলাদেশ দল পাঠানো নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি জাতীয় মর্যাদা এবং নির্বাচনের আগে দেশের স্থিতিশীলতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রাথমিক মূল্যায়নেও ভারতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঘিরে কয়েকটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। টুর্নামেন্টটি নিরপেক্ষ কোনো দেশে আয়োজনের জন্য কূটনৈতিক চেষ্টা চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
সবশেষে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ছোট দেশ বলে কেউ ইচ্ছেমতো অপমান করবে আর বাংলাদেশ তা নীরবে মেনে নেবে—এমন প্রত্যাশা ঠিক নয়। ভারতের সঙ্গে তিনি সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব চান, মাথা নত করে সবকিছু মেনে নেওয়া নয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন