ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

ঘোষণার পরেও নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারিতে দেরি হচ্ছে কেন?

নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর সরকারি চাকরিজীবীদের অপেক্ষা ছিল শুধু প্রজ্ঞাপনের। কিন্তু এক সপ্তাহের বদলে প্রায় দুই সপ্তাহ পার
  • আপলোড সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:২৪ সময়
  • আপডেট সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:২৪ সময়
ঘোষণার পরেও নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারিতে দেরি হচ্ছে কেন?

নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর সরকারি চাকরিজীবীদের অপেক্ষা ছিল শুধু প্রজ্ঞাপনের। কিন্তু এক সপ্তাহের বদলে প্রায় দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও সেই প্রজ্ঞাপন এখনো জারি হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট আটকে আছে কোথায়, আর কবে মিলবে চূড়ান্ত ঘোষণা? গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর নতুন বেতন কাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। তখন সপ্তাহখানেকের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রজ্ঞাপন না আসায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।


একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, এক সপ্তাহের জায়গায় দুই সপ্তাহ পার হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু গেজেটের কোনো খবর নেই। এ কারণেই সবার মধ্যে আবার কোনো জায়গায় বিষয়টি আটকে গেল কি না, সেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সাবেক আমলাদের মতে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ফলে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি বিশেষ ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় লাগাও অস্বাভাবিক নয়।


২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোর উদাহরণও সামনে এসেছে। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল ১৫ ডিসেম্বর। অর্থাৎ অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন পেতে সময় লেগেছিল প্রায় সাড়ে তিন মাস। নতুন পে-স্কেলের ক্ষেত্রেও প্রথমে অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত প্রজ্ঞাপনের খসড়া তৈরি করতে হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের সময় সাধারণত বেতন-ভাতা কত বাড়বে, তার মূল কাঠামো নির্ধারিত থাকে। কিন্তু চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে কীভাবে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশনা যুক্ত করতে হয়।


সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও পুলিশ, বিজিবি, সরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, সেটিও প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করতে হয়। এরপর খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় আইনি যাচাইয়ের জন্য। সংবিধান বা প্রচলিত আইনের সঙ্গে কোনো বিরোধ আছে কি না, প্রজ্ঞাপনের ভাষায় অস্পষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও সংবিধিবদ্ধ আদেশের খসড়াও এ সময় চূড়ান্ত করা হয়।


কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পরও নতুন পে-স্কেলের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অর্থাৎ খসড়াটি এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছেই রয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে খসড়া পাঠানোর কথা শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত সেটি তাদের হাতে পৌঁছায়নি। অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, বিষয়টি আটকে নেই; গেজেট প্রকাশের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই কিছুটা সময় লাগছে।


তার দাবি, সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ প্রজ্ঞাপনের খসড়া তৈরির কাজ চলছে। দ্রুতই সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনি যাচাই শেষে চূড়ান্ত খসড়া আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে। এরপর সেটি সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং মুদ্রণ সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।


এদিকে নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা রয়েছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর ২০তম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। নতুন কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।


নতুন বেতন কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পাশাপাশি চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই এটি কার্যকর হবে। অর্থাৎ জুলাই মাস থেকেই নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতার সুবিধা পাওয়ার কথা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে পে-স্কেলের মূল ঘোষণা এলেও এখন সরকারি চাকরিজীবীদের নজর প্রজ্ঞাপনের দিকে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের খসড়া প্রস্তুতির কাজ শেষ করে সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে কবে পাঠায় এবং এরপর কত দ্রুত গেজেট প্রকাশ হয়—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘৮০-৯০ দশকের’ ছবি বানাচ্ছেন? জেনে নিন আড়ালের ঝুঁকিগুলো

‘৮০-৯০ দশকের’ ছবি বানাচ্ছেন? জেনে নিন আড়ালের ঝুঁকিগুলো