ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কে নতুন করে ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত মিলেছে। পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে দুই দেশ। রোববার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে আবুধাবির যুবরাজ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর এ তথ্য জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, অতীতের ভুল ও মতপার্থক্য পেছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে এবং অভিন্ন স্বার্থে সহযোগিতা বাড়াতে উভয় পক্ষ একটি সাধারণ সমঝোতায় পৌঁছেছে। আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানো এবং পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই নেতা। বিশেষ করে আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এদিকে ইরান ও আমিরাতের এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর দেশটির সামরিক, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা হামলা চালায়।
ফলে পুরো অঞ্চলেই তৈরি হয় নতুন করে অস্থিরতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ। এমন পরিস্থিতিতে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠককে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের নেতাদের আলোচনায় যে সহযোগিতার বার্তা উঠে এসেছে, তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন