ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
জাকির নায়েককে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে মোদি-আনোয়ারের আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে এআই, রোবোটিক্স ও কারিগরি শিক্ষা: মাহদী আমিন ভুল করে ‘ডাকাত দলের বাসে’, মারধর-মুক্তিপণ দিয়ে শেষে উদ্ধার জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে বাকের-তাহমীদ, ঢাবিতে হাসিব-আইয়াম ১৩ সিটি করপোরেশনে জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী যারা সার কার্যক্রম তদারকিতে ‘সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুম’ চালু পর্যটকে মুখর কক্সবাজার: জমজমাট মৌসুম শুরুর প্রত্যাশা সব স্থানে সাত জনের বেশি সমর্থনপ্রত্যাশী বিএনপির, প্রার্থী চূড়ান্ত জামায়াতের ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ১ বাংলাদেশিকে হত্যা ও ২ জনকে আটক করেছে বিএসএফ

সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রভাব বাড়ছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী বলা যাবে, কোন তথ্যকে গুজব ধরা হবে আর কোন কনটেন্ট সরিয়ে বা বন্ধ করা হবে—এসব
  • আপলোড সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৩ সময়
  • আপডেট সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৩ সময়
সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রভাব বাড়ছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী বলা যাবে, কোন তথ্যকে গুজব ধরা হবে আর কোন কনটেন্ট সরিয়ে বা বন্ধ করা হবে—এসব বিষয়ে সরকারের ক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইন ২০২৬-এর খসড়ায় গুজব ও অপতথ্য, মানহানি, বুলিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বা পরিবর্তিত কনটেন্টের ক্ষেত্রে নতুন ও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ ও বন্ধ করার ক্ষমতাও আরও বিস্তৃত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।


তবে খসড়ার এসব বিধান নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। তাদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত কিছু ধারা মানুষের মৌলিক অধিকার, বাক্‌স্বাধীনতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। গত বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে খসড়াটি নিয়ে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রস্তাবিত বিভিন্ন সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করা হয়। খসড়ায় নতুন করে ২৬(ক) ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে সাইবার জগতে গুজব ও অপতথ্য প্রকাশ বা প্রচারকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৪০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।


খসড়ার সংজ্ঞা অনুযায়ী, গুজব বলতে এমন অসমর্থিত বা যাচাই না করা তথ্য, সংবাদ কিংবা দাবিকে বোঝানো হয়েছে, যা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা বা সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করে বা করার সম্ভাবনা রাখে। এদিকে ২৫ ধারাতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং ও অশ্লীল কনটেন্টের পাশাপাশি মানহানিকর তথ্যকে এর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এসব অপরাধের শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা ২০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।


নারী কিংবা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর করার প্রস্তাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বুলিংয়ের ক্ষেত্রেও নতুন সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এবং বারবার ক্ষমতা, প্রভাব বা আধিপত্য ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ওপর শারীরিক, মৌখিক, সামাজিক বা ডিজিটাল উপায়ে এমন আচরণ করা হলে, যাতে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি, ভয়, সামাজিক বর্জন, বিচ্ছিন্নতা কিংবা একাকিত্ব তৈরি হয়—সেটিকে বুলিং হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও সরাসরি আইনের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। কোনো তথ্য বা কনটেন্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি, সম্পাদনা, ধারণ বা পরিবর্তন করা হলে এবং সেটি কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। কোম্পানি বা কোনো আইনগত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কাঠামো রাখা হয়েছে। কোনো কোম্পানি দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত তার নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল কিংবা নিষিদ্ধ করার আদেশ দিতে পারবে।


তবে খসড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো ৮(২) ধারায়। বর্তমান ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ডিজিটাল বা বৈদ্যুতিন তথ্য অপসারণ, বন্ধ কিংবা স্থানান্তরের উদ্যোগ নিতে পারে। নতুন প্রস্তাবে এই ক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের অনুমোদিত অন্যান্য সংস্থা বা বাহিনীর ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি, ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, জাতিগত বৈষম্য থেকে সহিংসতার আশঙ্কা, অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নির্দেশনা, অপতথ্য, গুজব কিংবা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর তথ্য—এসব কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রকে অপমান করে এমন তথ্যও এর আওতায় রাখা হয়েছে।


এসব কনটেন্ট অপসারণ বা বন্ধ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করার সুযোগও থাকছে। অর্থাৎ, সংশোধিত আইনটি শুধু নতুন অপরাধ ও শাস্তি যুক্ত করছে না; একই সঙ্গে অনলাইনে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতার পরিধিও বাড়ানোর প্রস্তাব করছে।


এ নিয়ে গত শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, খসড়া আইনে সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা এবং মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার—তিনটি ভিন্ন বিষয়কে একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার মতে, এতে আইনের অপব্যাখ্যা ও অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত সাইবার আইন নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন—গুজব, অপতথ্য ও অনলাইন অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মানুষের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত রাখা হবে। খসড়ার চূড়ান্ত রূপে এই ভারসাম্য কতটা বজায় থাকে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘৮০-৯০ দশকের’ ছবি বানাচ্ছেন? জেনে নিন আড়ালের ঝুঁকিগুলো

‘৮০-৯০ দশকের’ ছবি বানাচ্ছেন? জেনে নিন আড়ালের ঝুঁকিগুলো