ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের সম্পদ ক্রোক হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের চালকবিহীন সাবমেরিন ড্রোন আটক করল ইরান পাঠ্যবইয়ে আসছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শেখ হাসিনা সরকারের কর্মকাণ্ড: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী লোডশেডিংয়ে আলু নিয়ে শঙ্কা শি-ট্রাম্প বৈঠকের আগেই চীনের বাণিজ্যে জোয়ার উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে পরমাণু বোমা নিক্ষেপে সক্ষম ডেস্ট্রয়ার যুক্ত চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া যাবে না: আনু মুহাম্মদ ২০৩০ সালের মধ্যে ৫৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য, চলবে সংসদ ভবনও বাড়ছে ই-বর্জ্যের ভাগাড়, তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

২০৩০ সালের মধ্যে ৫৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য, চলবে সংসদ ভবনও

বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের
  • আপলোড সময় : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৪ সময়
  • আপডেট সময় : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৪ সময়
২০৩০ সালের মধ্যে ৫৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য, চলবে সংসদ ভবনও

বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।


মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব তথ্য জানান। দেশে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়িয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে নোটিশটি দেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান।


প্রতিমন্ত্রী জানান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। এই বাড়তি চাহিদা পূরণে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য উৎস ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং বায়ু, বর্জ্য, জলবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও কৃষির সঙ্গে সমন্বিত সৌরপ্রযুক্তিসহ অন্যান্য উৎস থেকে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।


সৌরবিদ্যুৎ খাতের সরঞ্জাম আমদানিতে কর সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। সৌর প্যানেল, বিদ্যুৎ রূপান্তরক, ব্যাটারি ও অবকাঠামোগত সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় পণ্যে ১ শতাংশ কর নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র আমদানিকারকদের উৎসাহিত করতে আগামী ছয় মাসের জন্য বিশেষ করছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর ১৮০ দিন পর্যন্ত আমদানি করা এসব সরঞ্জামে অতিরিক্ত বিভিন্ন শুল্ক ও কর থেকে পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হবে।


উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ কিনবে সরকার,


আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ করবেন এবং নিজেদের চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তাদের কাছ থেকে সরকার আকর্ষণীয় মূল্যে বিদ্যুৎ কিনবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন অব্যবহৃত জমিতেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নসহ বেশ কয়েকটি নীতিমালা ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।


রামপাল ও মাতারবাড়ীতে সৌর প্রকল্প,


সুন্দরবনের পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের আবেগ বিবেচনায় রামপালে নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবর্তে ৪৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। একইভাবে মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ছাই রাখার জন্য নির্ধারিত এলাকায় ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।


সংসদ ভবনেও সৌরবিদ্যুৎ,


দেশের জাতীয় সংসদ ভবনের ছাদেও সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রমে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া ফেনীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ২৩টি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর এসব প্রকল্প উদ্বোধনের সম্ভাবনা রয়েছে।


তরুণদের জন্য তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান,


সৌরবিদ্যুৎ খাত সম্প্রসারণের ফলে জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তরুণদের এই খাতে যুক্ত করতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। এদিকে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অব্যবহৃত জমি চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রায় ৬০ হাজার একর জমির তথ্য পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই করে প্রায় ৩০০ একর জমি প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জমি বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


তবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের জন্য আলাদা কোনো মানচিত্র প্রকাশের উদ্যোগ এখনো নেই। এর পরিবর্তে সব সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ খাতে বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের

এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের