ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ‘ডিইউ ইভ্যালুয়েশন’ নামে একটি নতুন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন। মূল্যায়নকারীর পরিচয় গোপন রাখা হলেও সামগ্রিক মূল্যায়নের ফলাফল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়ার উদ্যোগে এই প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা ছিল ডাকসু নির্বাচনে তার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি।
জানা গেছে, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু করে পরবর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারবেন। মূল্যায়নে অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ই-মেইল ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর ই-মেইলে পাঠানো নির্দিষ্ট কোডের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করা যাবে। সিস্টেমে প্রবেশের পর শিক্ষার্থীরা শুধু নিজেদের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন। পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি বেনামি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে কোনো শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষককে কী মূল্যায়ন করেছেন, তা প্রকাশ করা হবে না। তবে সব শিক্ষার্থীর দেওয়া মূল্যায়নের সামগ্রিক ফলাফল প্রকাশ্যে দেখা যাবে।
উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর জন্য এর আগেও বিভিন্ন নীতিমালা ও খসড়া তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। ডাকসুর কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এখনো এগিয়ে না যাওয়ায় নিজ উদ্যোগে একটি ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাইরে থেকে এই উদ্যোগ নেওয়ায় এটি কেন্দ্রীয়ভাবে বাধ্যতামূলক করার সুযোগ নেই। তাই ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা অনেকটাই শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করবে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষকদের মূল্যায়নের একটি প্রকাশ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে উঠবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তা। তিনি আরও জানান, উদ্যোগটি মূলত শিক্ষক মূল্যায়নভিত্তিক বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অনুপ্রাণিত। তবে এখানে নির্দিষ্ট কোনো কোর্স বা শিক্ষক বেছে নেওয়ার পরিবর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষকদের সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উদ্যোক্তার দাবি, শিক্ষকদের মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ্যে থাকার কারণে এটি শিক্ষার মান উন্নয়নে এক ধরনের বাহ্যিক চাপ হিসেবেও কাজ করতে পারে। রাফিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা হলে সেটিই সবচেয়ে কার্যকর হতো। কিন্তু প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি এখনো বিভিন্ন সভা ও পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। তাই তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অন্তত একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করেছেন তিনি।
ওয়েব অ্যাপ ব্যবহারের সময় কোনো শিক্ষার্থী সমস্যায় পড়লে ডাকসুর নির্ধারিত ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারবেন। সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও জানিয়েছেন উদ্যোক্তা। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষক মূল্যায়নের এই অনলাইন ব্যবস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত কিংবা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত কোনো উদ্যোগ নয়। ফলে মূল্যায়ন পদ্ধতি, ফলাফল যাচাই এবং সংগৃহীত তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হবে—এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো জানা যায়নি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন