রাজধানীর গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ আটজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তাদের সবারই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।
তিনি বলেন, তাদের কারও শরীরের ৮-১০ শতাংশ পুড়েছে। কিন্তু সবারই শ্বাসনালী পুড়েছে। এজন্য তাদের কারও অবস্থাই আশঙ্কামুক্ত নয়। আহতদের মধ্যে শরীরের বাইরের অংশ পুড়েছে কম।
আগুনে দগ্ধদের মধ্যে আসিফ মোহাম্মদ খান, ড. কৌশিক বিশ্বাস, নাফিস আলম, মো. মাসুদ রানা, ডেইজি আক্তার রত্না, রেহান, মো. ইকবাল এবং দিহানকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে রেহান ছয় বছর বয়সী, দিহানের বয়স ১১ বছর। তারা সবাই হাসপাতালের অরেঞ্জ ইউনিটে ভর্তি আছেন।
ভোট ঠেকাতে বিএনপির ডাকা হরতালের আগে শুক্রবার রাত নয়টার দিকে রাজধানীর গোপীবাগ কাঁচাবাজারের কাছে এসে থেমে যায় বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি। সে সময় ট্রেনের কয়েকটি বগি থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেন। সে সময় ভেতর থেকে ভেসে আসছিল যাত্রীদের আর্তচিৎকার। ওই ঘটনায় নিহত হয়েছেন চার জন।
এদিকে ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী মো. সৌমিক শাওন কবিরকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। সাত সদস্যের কমিটি তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ১৫৪ যাত্রী নিয়ে শুক্রবার দুপুর ১টায় বেনাপোল থেকে কমলাপুর স্টেশনের উদ্দেশে ছেড়ে আসে ট্রেনটি। যাত্রাপথে ১১টি স্টেশনে বিরতি নেয় বেনাপোল এক্সপ্রেস। ট্রেনে কমলাপুরগামী যাত্রী ছিলেন ৪৯ জন। ট্রেন ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রাত ৯টার দিকে। এর মধ্যে রাজধানীর গোপীবাগ পৌঁছালে আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনের চার বড়ি পুড়ে ছাই হয়েছে। এসব বগিতে থাকা চারজনের মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ ৮ জন বর্তমানে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন