বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলেও সেই সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগাতে পারছে না রাষ্ট্রায়ত্ত জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল। সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি, ভাষাজ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের অভাবই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ৩৬টি দেশে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম থাকলেও বাস্তবে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন মাত্র তিনটি দেশে—জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রুনেই। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত অনেক দেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা খুবই সীমিত, আবার কিছু দেশে কোনো কোনো বছর একজন কর্মীও পাঠানো সম্ভব হয়নি। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন শ্রমবাজার খুঁজে পেলেই হবে না; সেই বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি করতে না পারলে সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেবে না।
বোয়েসেলের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বুলগেরিয়া, মালদ্বীপ, ফিজি, রাশিয়াসহ কয়েকটি নতুন দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব বাজারে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে কম। বিপরীতে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত নিয়োগব্যবস্থা থাকায় জর্ডান ও দক্ষিণ কোরিয়াতেই বেশি কর্মী যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নির্মাণ শ্রমিকের পাশাপাশি ওয়েল্ডার, ইলেকট্রিশিয়ান, কেয়ারগিভার, নার্স, মেশিন অপারেটর, হোটেল ও পর্যটন খাতের কর্মী এবং তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট দক্ষ জনবলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যার বার্ধক্য ও শ্রমিক সংকটের কারণে বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে বিদেশি নিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী চাইছেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই মানের দক্ষ কর্মী পর্যাপ্ত না থাকায় অনেক সম্ভাবনাময় বাজারে নিয়মিত কর্মী পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
বোয়েসেলের নির্বাহী পরিচালক মো. শওকত আলী বলেছেন, দেশে জনশক্তির অভাব নেই, কিন্তু দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তিনি জানান, সরকার দক্ষ কর্মী তৈরি এবং নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বাজারেও বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাষা শিক্ষা, আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষতার সনদায়ন এবং বিদেশি নিয়োগকারীদের চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণে আরও বিনিয়োগ করা গেলে নতুন বাজারে নিয়মিত কর্মী পাঠানো সহজ হবে। এতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহও আরও শক্তিশালী হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন