ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর সাম্প্রতিক যৌথ বিমান হামলা দেশটির সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বুধবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক কমান্ড এবং সৌদি আরব জানায়, মার্কিন বাহিনী ও সৌদি জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাবে পূর্ব ইরাকের কয়েকটি অস্ত্রগুদাম ও সরবরাহকেন্দ্রে যৌথ বিমান অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এসব হামলার পেছনে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্পৃক্ততা ছিল। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইয়েমেনের একটি সশস্ত্র আন্দোলনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। তাদের দাবি, সৌদি আরবে আগের ড্রোন হামলার দায় তাদের সংগঠন প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিল এবং ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে ওই হামলার কোনো সম্পর্ক ছিল না।
অন্যদিকে, ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, সাতটি প্রদেশে তাদের বিভিন্ন সদর দপ্তরে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ২০ সদস্য নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেন। তবে বিমান হামলার বিষয়ে ইরাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিন্দা বা বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা ও পাল্টাপাল্টি দাবির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন