রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, আগস্টের শেষার্ধে নির্বাচন কমিশন তপশিল ঘোষণা করতে পারে এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন।
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় ওই অধিবেশনেই নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তাই বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই বলে সরকারের ধারণা। নিয়মিত সংসদ অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। তপশিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজনে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হিসেবে অংশ নেবেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। যদি একজন বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে তাকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ ভবনে গোপন ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল জানিয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা শেষে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এরপর সংসদীয় দলের সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে সেই নাম অনুমোদন দেওয়া হবে। এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তিনি বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলেও সরকারি বাসভবন হিসেবে স্পিকারের সরকারি বাসভবনই ব্যবহার করবেন।
অন্যদিকে, সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর তাকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আইনি ও সাংবিধানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন সাংবিধানিক দায়মুক্তির বিধান এবং পদত্যাগের পর তার আইনি অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা বিচারিক রায় আসেনি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন