ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠালেই আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হবে: শামা ওবায়েদ ‘আসতে হবে না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই’ অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়েও বর্তমান সরকার দেশকে খারাপ দিকে নিয়ে যাচ্ছে জোর করে স্লোগান দেওয়ানোর চেষ্টা, বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বাঁচা-মরার ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত নোরা ফাতেহির বিরুদ্ধে ৩ কোটির মানহানির মামলা ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলার নিন্দা জানালেন ছাত্রদল সভাপতি জুলাই আন্দোলনে স্বামীর মৃত্যুর সাক্ষ্য দেওয়ায় মেয়েকে ধর্ষণ কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: পরিকল্পনা উপদেষ্টা চক্রান্তকারীরা বারবার ধর্মীয় সম্প্রীতি ভাঙার চেষ্টা করেছে: রিজভী

ভারতে জেন-জি বিক্ষোভে মোদি সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

ভারতে অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গধর্মী একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু হওয়া ‘তেলাপোকা জনতা’ আন্দোলন দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। বেকারত্ব, সীমিত
  • আপলোড সময় : ২৫ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৩১ সময়
  • আপডেট সময় : ২৫ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৩১ সময়
ভারতে জেন-জি বিক্ষোভে মোদি সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

ভারতে অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গধর্মী একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু হওয়া ‘তেলাপোকা জনতা’ আন্দোলন দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। বেকারত্ব, সীমিত কর্মসংস্থান, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মতো নানা ইস্যুতে ক্ষুব্ধ তরুণদের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এই আন্দোলন ভারতের সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, কৃষক আন্দোলনের পর এটিই সবচেয়ে বড় গণআন্দোলনে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।


আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল গত জুন মাসে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতার কারণে লাখো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এরপর রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্যারিকেড ভাঙার অভিযোগে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষেই বহু মানুষ আহত হন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। তবে পুলিশ দাবি করেছে, সংঘর্ষে তাদের সদস্যরাও আহত হয়েছেন।


এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে দেশের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য। এক শুনানিতে তিনি দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাওয়া একটি গোষ্ঠীকে ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করেন। পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ‘তেলাপোকা জনতা’ নামে নতুন প্ল্যাটফর্মের জন্ম হয়, যা অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগে বিরোধী নেতারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন কৃষক সংগঠন ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলও আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।


সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক উদ্বেগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবুও আন্দোলনের গতি কমেনি। বরং আন্দোলনটি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটির নেতারা। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের বিরুদ্ধে জমে থাকা অসন্তোষের কারণে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। ফলে এটি যেমন আরও শক্তিশালী হচ্ছে, তেমনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের

এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের