ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ফিলিস্তিনি হামাস সদস্যদের জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ কারাগারের নিরাপত্তা জোরদারে কুমির রাখার উদ্দেশ্যে পরিখা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নেগেভ মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত কেতজিওত কারাগারের একটি বিশেষ অংশে প্রায় ১৭০ মিটার দীর্ঘ পরিখা খনন করা হচ্ছে। পরিখাটি কারাগারের এমন একটি অংশে নির্মাণ করা হচ্ছে, যা বাইরে থেকে সহজে দেখা যায় না।
জানা গেছে, ইসরায়েলের পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তের পর নীল নদের কুমিরকে বিশেষ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়। জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প। পরিখা নির্মাণ, কুমিরের পরিচর্যা এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য প্রায় ২১ মিলিয়ন শেকেল বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারা কর্মকর্তাদেরও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে ইসরায়েলের প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইনি উপদেষ্টারা। তারা বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকে পরিবেশগত ও নৈতিক দিকগুলো পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। কেতজিওত কারাগার ইসরায়েলের অন্যতম বৃহৎ বন্দিশালা, যেখানে গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীর থেকে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখা হয়। ফিলিস্তিনি বন্দিবিষয়ক সংস্থাগুলোর দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বন্দিদের ওপর কঠোর আচরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে তুলে আসছে বিভিন্ন সংস্থা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন