দেশের উচ্চশিক্ষা, মুক্তবুদ্ধি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজ ১০৬ বছরে পদার্পণ করেছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষিত জাতি গঠন, জ্ঞানচর্চা এবং বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯২১ সালের ১ জুলাই পূর্ববঙ্গের মানুষের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়। অল্পসংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠান বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণআন্দোলনসহ দেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাক্তনদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি শিক্ষাকেন্দ্র নয়, বরং জাতীয় চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরও প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কয়েক ডজন বিভাগ, একাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক হল এবং হাজারো শিক্ষক-শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, গবেষণায় স্বল্প বরাদ্দ এবং শিক্ষার্থীসংখ্যার চাপের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়েও প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগামী দুই দশকের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর লক্ষ্য শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আধুনিকায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন