আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সভা-সেমিনার ফি, সম্মানী ও প্রশিক্ষণ ভাতার ওপর উৎসে করের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন পেশাজীবী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক ও গবেষকদের হাতে পাওয়া অর্থ আগের তুলনায় কমে যাবে। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণের বিপরীতে প্রাপ্ত ফি, সম্মানী এবং প্রশিক্ষণ ভাতার ওপর উৎসে করের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অর্থ পরিশোধের সময় নির্ধারিত কর কেটে রেখে বাকি অর্থ প্রদান করবে।
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন পেশাগত কার্যক্রম থেকে পাওয়া আয়েও অতিরিক্ত করের চাপ পড়বে। এর আওতায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা পড়বেন। এছাড়া কারিগরি সহায়তা বা বিশেষজ্ঞ সেবা প্রদানের বিপরীতে আয়ের ওপর উৎসে করের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারি বিধি অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বর্তমানে প্রশিক্ষণ ও সভা-সেমিনার থেকে নির্ধারিত হারে ভাতা পান। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রতি ঘণ্টায় কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা পেয়ে থাকেন, আর প্রশিক্ষণার্থীরা দৈনিক নির্দিষ্ট হারে ভাতা পান। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য পূরণে করের পরিধি ও হার বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে বিপুল রাজস্ব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন, যা বর্তমানে সংসদে আলোচনাধীন রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন হলে এসব কর পরিবর্তন আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন