ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরানের বিরুদ্ধে তৈরি করা হয়নি: তুরস্ক বাংলাদেশের সামনে ফাইনালের সমীকরণ, কোথায় দাঁড়িয়ে ভারত আর্জেন্টিনার পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কিশোরের মৃত্যু ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে বিএনপি: মির্জা ফখরুল বিল পরিশোধ ও রিচার্জে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মিলবে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দিল্লিতে শেখ হাসিনা বিতর্ক: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন কি বাড়ছে? মজুত খালি হওয়ার অস্ত্র উৎপাদন বাড়াচ্ছে পেন্টাগন মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে পরবর্তী ধাপে যোগ দিতে পারে মিসর একটি চক্র জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে মেসিকে ‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

বাংলাদেশের সামনে ফাইনালের সমীকরণ, কোথায় দাঁড়িয়ে ভারত

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রে এখনো বাকি ১৫টি সিরিজ। ২৭ সিরিজের এই চক্রে মূল লড়াই এখন সামনে। ২০২৭
  • আপলোড সময় : ৯ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৪৭ সময়
  • আপডেট সময় : ৯ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৪৭ সময়
বাংলাদেশের সামনে ফাইনালের সমীকরণ, কোথায় দাঁড়িয়ে ভারত

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রে এখনো বাকি ১৫টি সিরিজ। ২৭ সিরিজের এই চক্রে মূল লড়াই এখন সামনে। ২০২৭ সালের ৯ থেকে ১৩ জুন লন্ডনের দ্য ওভালে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। সেই লড়াইয়ে জায়গা করে নিতে কোন দল কতটা এগিয়ে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ। গত দুই চক্রের পরিসংখ্যান বলছে, ফাইনালে উঠতে সাধারণত ৬৫ শতাংশের বেশি পয়েন্ট প্রয়োজন হয়। সর্বশেষ চার ফাইনালিস্টের মধ্যে তিন দলই ৬৫ শতাংশের বেশি পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে উঠেছিল। ব্যতিক্রম ছিল ভারত, যারা ২০২৩ সালে ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট নিয়েও ফাইনালে জায়গা করে নেয়।


বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ের জন্য ১২ পয়েন্ট, ড্র হলে উভয় দল চার পয়েন্ট এবং ম্যাচ টাই হলে ছয় পয়েন্ট করে পায়। তবে এখানে মোট পয়েন্টের চেয়ে পয়েন্টের হারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিভিন্ন দল ভিন্ন সংখ্যক টেস্ট খেলে। সেই কারণে অর্জিত পয়েন্টের শতাংশের ভিত্তিতেই তৈরি হয় তালিকা এবং শীর্ষ দুই দল ফাইনালে খেলার সুযোগ পায়।


বর্তমানে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আট টেস্টে সাত জয় ও এক হারে তাদের পয়েন্টের হার ৮৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। সামনে তাদের আরও ১৪টি টেস্ট। বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফর, এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ এবং সবশেষে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলবে তারা।


অস্ট্রেলিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে ভারত সফর। ভারতে সর্বশেষ ১২ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয় মাত্র দুটি। তবে বর্তমান অবস্থান থেকে ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে তারাই সবচেয়ে এগিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকাও রয়েছে শক্ত অবস্থানে। চার টেস্টে তিন জয় ও এক হারে তাদের পয়েন্টের হার ৭৫ শতাংশ। সামনে বাকি ১০ টেস্টের আটটিই নিজেদের মাঠে। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। ফলে নিজেদের মাঠের সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে ফাইনালে ওঠার দৌড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ভালোভাবেই টিকে থাকবে।


নিউজিল্যান্ডও রয়েছে সুবিধাজনক অবস্থানে। ছয় টেস্টে চার জয়, এক হার ও এক ড্রয়ে তাদের পয়েন্টের হার ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ। বাকি ১০ টেস্টের মধ্যে ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের মাঠে খেলবে তারা। অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বিদেশের মাটিতে। অস্ট্রেলিয়ায় চার টেস্টের সিরিজ তাদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। বাংলাদেশের অবস্থানও একেবারে খারাপ নয়। চার টেস্টে দুই জয়, এক হার ও এক ড্রয়ে বাংলাদেশের পয়েন্টের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। সামনে বাকি আট টেস্ট। এর চারটি দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আর বিদেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।


৬০ শতাংশ পয়েন্টে পৌঁছানোর সুযোগ বাংলাদেশের সামনে রয়েছে। ঘরের মাঠে চার টেস্ট জয়ের পাশাপাশি অন্তত একটি বিদেশের টেস্ট জিততে পারলে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। তবে ফাইনালে উঠতে শুধু ৬০ শতাংশ পয়েন্ট যথেষ্ট নাও হতে পারে। সাম্প্রতিক চক্রগুলোর ফল অন্তত তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের নিচে। নয় টেস্টে চার জয়, চার হার ও এক ড্রয়ে তাদের পয়েন্টের হার ৪৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। সামনে বাকি নয় টেস্টের মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে সিরিজ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে পাঁচ টেস্ট রয়েছে।


ভারতের জন্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজটি হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৮ সালের পর নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ পাঁচ সিরিজে ভারত ১২-২ ব্যবধানে এগিয়ে। তাই বাকি ম্যাচগুলোতে ভালো ফল করতে পারলে ফাইনালের লড়াইয়ে আবারও শক্তভাবে ফিরতে পারে তারা। শ্রীলঙ্কার পয়েন্টের হার বর্তমানে ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। চার টেস্টে একটি জয়, একটি হার ও দুটি ড্র পেয়েছে তারা। সামনে ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আটটি টেস্ট। ফাইনালে যেতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্স করতে হবে দলটিকে।


অন্যদিকে ইংল্যান্ডের অবস্থা বেশ কঠিন। ১৩ টেস্টে চার জয়, আট হার ও এক ড্রয়ের পাশাপাশি ধীর ওভার রেটের কারণে ১৪ পয়েন্ট হারিয়েছে তারা। সামনে আটটি টেস্ট থাকলেও সবগুলো জিতলেও সর্বোচ্চ ৫৩ দশমিক ১৭ শতাংশ পয়েন্টে পৌঁছাতে পারবে। ফলে তাদের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা এখন খুবই ক্ষীণ। পাকিস্তানের অবস্থাও নাজুক। ছয় টেস্টে দুই জয় ও চার হারের পাশাপাশি ধীর ওভার রেটের কারণে আট পয়েন্ট কাটা গেছে। সামনে বাকি সাত টেস্ট। সবগুলো জিতলেও সর্বোচ্চ ৬৪ দশমিক ১০ শতাংশে উঠতে পারবে তারা। ফলে ফাইনালের লড়াইয়ে ফিরতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে প্রায় নিখুঁত ফল করতে হবে পাকিস্তানকে।


সবচেয়ে কঠিন অবস্থানে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১২ টেস্টে মাত্র দুটি জয়, আট হার ও দুটি ড্রয়ে তাদের পয়েন্টের হার ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সামনে বাকি মাত্র দুই টেস্ট, দুটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে। দুই ম্যাচ জিতলেও সর্বোচ্চ ৩২ দশমিক ১৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারবে তারা। ফলে চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড় থেকে কার্যত ছিটকে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।


সব মিলিয়ে বর্তমান অবস্থানে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে। বাংলাদেশও লড়াইয়ে টিকে আছে, তবে ফাইনালের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে সামনের আট টেস্টে বড় ধরনের সাফল্য প্রয়োজন। আর ভারতকে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পরকীয়ার অভিযোগে গ্রামবাসীর হাতে আটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া

পরকীয়ার অভিযোগে গ্রামবাসীর হাতে আটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া