ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুশইনের শিকার হওয়া ১২ জন বাংলা ভাষাভাষী নারী, পুরুষ ও শিশু টানা তৃতীয় দিনের মতো বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। খোলা আকাশের নিচে তীব্র গরম, রোদ ও বৃষ্টির মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করতে গিয়ে তারা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকটে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ অবস্থায় কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি নীল পলিথিনের ওপর গাদাগাদি করে বসে আছেন নারী, পুরুষ ও শিশুরা। কয়েকটি শিশু সেখানে ঘুমিয়ে রয়েছে, আর এক শিশুকে অসুস্থ অবস্থায় কোলে নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় এক নারীকে। স্থানীয়দের ভাষ্য, শিশুটি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।
ভিডিওতে থাকা এক ব্যক্তি অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, প্রচণ্ড গরমে শিশুদের নিয়ে সেখানে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের নাগরিক কি না, তা যাচাই করারও অনুরোধ জানান তিনি। ওই ১২ জন নিজেদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ভোরে সীমান্তের একটি পিলারের পাশ দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। পরে তারা দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা বিষয়টি সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে জানায়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে তাদের আবার সীমান্তের শূন্যরেখায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সীমান্তঘেঁষা মাথাভাঙ্গা নদীর তীরবর্তী একটি পাটখেতের পাশে তারা অবস্থান করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের সাঁকো পার হয়ে মাঝেমধ্যে তাদের জন্য খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দিচ্ছেন।
এ ঘটনার পর শনিবার সকালে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, ওই ১২ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আপাতত বিষয়টির কোনো নিষ্পত্তি হয়নি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন