দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আ ন ম এহছানুল হক মিলন। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বাধ্যতামূলক করা হবে। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হবে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং আনন্দময় শিক্ষা।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খেলাধুলার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ফুটবল, দাবাসহ কয়েকটি জনপ্রিয় খেলা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন খেলা পর্যায়ক্রমে যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়টিতে গান, নাচ, আবৃত্তি, বিতর্ক, বক্তৃতার মতো পরিবেশনভিত্তিক কার্যক্রমের পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন, সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল প্রকাশের সুযোগ থাকবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী বিভিন্ন ক্ষেত্র বেছে নিতে পারবে।
এদিকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার। এ বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারায় আনা হবে। নতুন যুক্ত হওয়া ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বিষয়টি শুধু একটি পাঠ্যবিষয় নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক গুণাবলি বিকাশের একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর আওতায় বৃক্ষরোপণ, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং জাতীয় দিবস সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে।
সরকার জানিয়েছে, ২০২৭ সালে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন বিষয়গুলো চালু করা হবে। পরে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ২০২৮ সালে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন বিষয়গুলোর জন্য আলাদা প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে কোনো জিপিএ বা গ্রেড থাকবে না; শিক্ষার্থীদের পাস বা ফেল ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন