কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সরকারি মালামাল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি মালামাল বিক্রি করে পরে চুরির ঘটনা সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মালামাল উদ্ধার হওয়ার পরও মামলা না করায় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি মালামাল নিখোঁজ হয়। এর মধ্যে ছিল ২০ লিটারের ৮৫টি বালতি, সমসংখ্যক ঢাকনা, ১০ লিটারের ২৯০টি জেরিকেন, কয়েকটি সিলিং ফ্যান, শত শত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও নেপকিনসহ বিভিন্ন সামগ্রী। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে পুলিশের তদন্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর দোকান থেকে কিছু বালতি, জেরিকেন ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
তবে মালামাল উদ্ধারের পরও কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সম্পদ উদ্ধার হওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া রহস্যজনক। আদালতের অনুমোদন ছাড়াই শুধু মুচলেকার ভিত্তিতে জব্দকৃত মালামাল ফেরত দেওয়ার ঘটনাও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনীহার কারণেই তিনি মামলা করেননি। তবে এই বক্তব্য নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেছেন, সরকারি মালামাল চুরির ঘটনায় কেন মামলা করা হয়নি, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চাইবেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন