ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ধোঁয়াশা ডাক্তার থেকে দূরে থাকতে প্রতিদিন এক কাপ ‘গ্রিন টি’ এক দশক পর ভারত থেকে আসতে যাওয়া নতুন রেল কোচে থাকছে যেসব সুবিধা খাগড়াছড়িতে পাঁচ বস্তা থেকে ২৪টি গুইসাপ উদ্ধার, নারী আটক কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫, আহত ৩৫০০ গ্যাস সংকট নিরসনের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ চালকদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট ডারউইনে টাইগার পেস অ্যাটাকে নাজেহাল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া, নেই ৮ উইকেট মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদে আলোচনায় যারা কঙ্গোতে ইবোলা ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রূপ নেওয়ার পথে: ডব্লিউএইচওকঙ্গোতে ইবোলা ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রূপ নেওয়ার পথে: ডব্লিউএইচও

ইরান যুদ্ধে যেভাবে হুমকিতে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার তিমিরা

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান কেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা শুধু বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নয়, সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যেও গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার
  • আপলোড সময় : ১৪ মে ২০২৬, সকাল ৯:৫৪ সময়
  • আপডেট সময় : ১৪ মে ২০২৬, সকাল ৯:৫৪ সময়
ইরান যুদ্ধে যেভাবে হুমকিতে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার তিমিরা

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান কেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা শুধু বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নয়, সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যেও গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে তিমিদের জীবন এখন নতুন সংকটের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের জাহাজ হামলার পর বাণিজ্যিক জাহাজগুলো বাধ্য হয়ে দীর্ঘ সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে শুরু করে। এখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় অনেক জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যের সংক্ষিপ্ত রুট এড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলাচল করছে।


আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)–এর পোর্টওয়াচ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ৮৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই রুট ব্যবহার করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই অতিরিক্ত জাহাজ চলাচলের ফলে কেপ অব গুড হোপ অঞ্চলের সামুদ্রিক পরিবেশে চাপ বাড়ছে, যেখানে ৪০টিরও বেশি প্রজাতির তিমি বসবাস করে। বিশেষ করে সাউদার্ন রাইট, হাম্পব্যাক এবং ব্রাইডস হোয়েলসহ নানা প্রজাতির তিমির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।


বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম্পব্যাক তিমির প্রায় ১১ থেকে ১৩ হাজারের একটি বড় দল এই অঞ্চলে খাবার সংগ্রহের জন্য আসে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত। প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এলস ভারমিউলেন সতর্ক করে বলেছেন, জাহাজের সংখ্যা ও গতি বৃদ্ধির কারণে তিমিরা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। অনেক সময় তিমিরা জাহাজের উপস্থিতি বুঝতে না পেরে সংঘর্ষের শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, বাইরে থেকে এটি স্বাভাবিক দৃশ্য মনে হলেও বাস্তবে এটি ভয়াবহ পরিবেশগত সংকেত।


ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের (WWF) বিশেষজ্ঞ ক্রিস জনসন জানিয়েছেন, তিমিরা এখনও দ্রুতগতির জাহাজ এড়িয়ে চলার মতো অভিযোজন করতে পারেনি। ফলে সংঘর্ষের ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সাউদার্ন রাইট তিমির মৃত্যুর অন্তত ১১টি সরাসরি জাহাজের ধাক্কায় ঘটেছে এবং আরও অনেক ক্ষেত্রে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


বিশেষজ্ঞরা সমাধান হিসেবে উপকূল থেকে জাহাজের রুট কিছুটা দূরে সরানো, গতি কমানো এবং তিমির অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে সতর্কতা জারি করার মতো পদক্ষেপের সুপারিশ করেছেন। কিছু আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি ইতোমধ্যে বিকল্প রুট ব্যবহার শুরু করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বিশ্ব রাজনীতির সংঘাত কীভাবে দূরবর্তী প্রকৃতিতেও প্রভাব ফেলছে—দক্ষিণ আফ্রিকার তিমিরা তারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অবৈধ তিন হাজার ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হচ্ছে

অবৈধ তিন হাজার ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হচ্ছে