ঢাকা | |

ইউরোপের আপত্তি সত্ত্বেও পুতিনকে জি২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের

ইউরোপের একাধিক দেশের আপত্তির মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় আগামী ডিসেম্বরের জি২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন
  • আপলোড সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৬ সময়
  • আপডেট সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৬ সময়
ইউরোপের আপত্তি সত্ত্বেও পুতিনকে জি২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের

ইউরোপের একাধিক দেশের আপত্তির মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় আগামী ডিসেম্বরের জি২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি করতেই পুতিনকে এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।  নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান রুবিও। তিনি বলেন, পুতিনের জন্য শুধু ট্রাম্পের সঙ্গে নয়, বিশ্বের অন্যান্য নেতার সঙ্গেও সরাসরি আলোচনার এটি একটি সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, রুশ প্রেসিডেন্ট এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন। 


এবারের জি২০ সম্মেলন ডিসেম্বর মাসে মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পুতিন আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সরাসরি অংশ নিলে ২০১৯ সালের পর জি২০ নেতাদের সম্মেলনে তাঁর প্রথম সশরীরে উপস্থিতি হবে। ২০২৩ সালে তিনি জি২০-এর একটি অধিবেশনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়েছিলেন।  এই আমন্ত্রণ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত। ইউক্রেনে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনীয় হামলা—দুই পক্ষের সংঘাতই চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প দুই দেশের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা কমানো বা বন্ধের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। 


ইউরোপীয় দেশগুলোর আপত্তির বিষয়ে রুবিওর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সংকটের সমাধানের জন্য শুধু নিজেদের সঙ্গে একমত দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করলেই হবে না। বরং যাদের সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে, তাদের সঙ্গেও আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। তাঁর এই অবস্থানই পুতিনকে জি২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর অন্যতম ব্যাখ্যা হিসেবে সামনে এসেছে।  এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কায় ট্রাম্প ও পুতিন সরাসরি বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হলেও তখন কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। এবার জি২০ সম্মেলনে পুতিন উপস্থিত হলে দুই নেতার আবারও সরাসরি বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে। 


এদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আমন্ত্রণটি বিবেচনা করার কথা জানানো হয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, আমন্ত্রণের বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে ডিসেম্বরের সম্মেলনে পুতিন নিজে উপস্থিত থাকবেন কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।  জি২০ হলো বিশ্বের বড় অর্থনীতি ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরাম। এতে বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলো বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা করে। রাশিয়া এখনো জি২০-এর সদস্য হওয়ায় দেশটির অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। 


ফলে ডিসেম্বরের মিয়ামি সম্মেলনে পুতিনের উপস্থিতি শুধু যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কের জন্য নয়, ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে চলমান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও নতুন আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত পুতিন সম্মেলনে সরাসরি অংশ নেবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
ভিডিও ভাইরালের পর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে বাদ পড়ছেন পাভেল?

ভিডিও ভাইরালের পর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে বাদ পড়ছেন পাভেল?