ইরানের যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শান্তি প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়ে গেছে। সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতির তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ৬৪ সেন্টে পৌঁছেছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও বেড়েছে। এশিয়ার বাজারে ডব্লিউটিআইয়ের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ১১ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। তেলের বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
ইরান যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরই বাজারে নতুন করে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপে পড়তে পারে। আর সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সাধারণত অপরিশোধিত তেলের দামে তার প্রভাব পড়ে।
তবে তেলের দাম সামনে আরও কতটা বাড়বে বা কমবে, তা নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ কতটা স্বাভাবিক থাকে—এসব বিষয়ের ওপর। সব মিলিয়ে, ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর এশিয়ার বাজারে আবারও তেলের দাম বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু তেলের বাজারেই নয়, পরিবহন ব্যয়, শিল্প উৎপাদন এবং বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতিতেও পড়তে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন