রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্রমবর্ধমান মানবিক ও স্বাস্থ্য সংকটকে কেন্দ্র করে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে ডাঃ মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন। শনিবার ঢাকার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-এর সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত “মিট দ্য প্রেস” ও আলোচনা সভায় এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং অক্সফোর্ডে গ্লোবাল হিউম্যানিটারিয়ান চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন এ. কে. এম. গোলাম কিব্রীয়া এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সাবেক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন পরিচালক ডা. সুলতানা খানম বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে, যা এখন আর শুধু শরণার্থী সংকট নয়—বরং আঞ্চলিক ও জাতীয় জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৫ থেকে ৭ মে কুতুপালং ক্যাম্পে পরিচালিত তিন দিনের জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রমে ১,৪০০-এরও বেশি রোগীকে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রামক রোগের বিস্তার, অপুষ্টি এবং অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা মিলিয়ে পরিস্থিতি “জৈবিক টাইম বোমা”-তে পরিণত হচ্ছে, যা সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বক্তারা আরও বলেন, রোগবিস্তার কোনো সীমান্ত মানে না। তাই শরণার্থী জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরাসরি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব ও সুযোগের অভাব তাদের অপরাধ, মাদক ও উগ্রবাদের ঝুঁকিতে ঠেলে দিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। ক্যাপ্টেন কিব্রীয়া জানান, ফাউন্ডেশনের বৈশ্বিক উদ্যোগ “Five Zero Global Campaign” স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও মানবিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান তৈরিতে কাজ করছে।
ফাউন্ডেশন আরও জানায়, তারা জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক-এর সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যৌথ আলোচনায় অংশ নিয়েছে এবং বর্তমানে তাদের কার্যক্রম ১৫টি দেশে বিস্তৃত। বক্তারা বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান—রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত, এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের কার্যকর রোডম্যাপ গ্রহণের জন্য। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, চিকিৎসক, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন