ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদাবাজির ‘ঢালাও’ অভিযোগ করেছে সালমান, মামলা করলে তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অপরাধী যে দলের হোক না কেন, সরকারকে কঠোর হতে হবে: আসিফ নজরুল শিগগিরই জ্বালানি সংকট কেটে যাবে, আশা জ্বালানিমন্ত্রীর বাংলা সিনেমার মতো ‘ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ এসেছে’: আসিফ মাহমুদ ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন ভারতে টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা ও ধস, নিহত অন্তত ৫৬ এগিয়ে গিয়েও চাইনিজ তাইপের কাছে হারলো বাংলাদেশের মেয়েরা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার সঙ্গে শাসক দলের লোকজন জড়িত: মিয়া গোলাম পরওয়ার ঝিনাইদহ সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

ছেলেকে ইসরায়েলের কারাগারে ‘বন্দী দেখে’ আনন্দে আত্মহারা ফিলিস্তিনি মা

দেড় বছর ধরে ছেলেকে মৃত ভেবে শোক পালন করেছে পরিবার। হাসপাতাল, মর্গ ঘুরে মরদেহ খোঁজার পর মৃত্যু সনদও
  • আপলোড সময় : ৯ মে ২০২৬, সকাল ৯:৩৩ সময়
  • আপডেট সময় : ৯ মে ২০২৬, সকাল ৯:৩৩ সময়
ছেলেকে ইসরায়েলের কারাগারে ‘বন্দী দেখে’ আনন্দে আত্মহারা ফিলিস্তিনি মা

দেড় বছর ধরে ছেলেকে মৃত ভেবে শোক পালন করেছে পরিবার। হাসপাতাল, মর্গ ঘুরে মরদেহ খোঁজার পর মৃত্যু সনদও সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে জানা যায়, ২৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি যুবক ঈদ নাঈল আবু শার জীবিত আছেন এবং ইসরায়েলের ওফার কারাগার-এ আটক রয়েছেন। আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর কাজের সন্ধানে গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নেটজারিম করিডর এলাকায় গিয়ে নিখোঁজ হন ঈদ। এলাকাটি ‘অ্যাক্সিস অব ডেথ’ বা ‘মৃত্যুর কেন্দ্র’ নামেও পরিচিত, যেখানে বহু ফিলিস্তিনি নিহত বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।


ঈদের বাবা নাঈল আবু শার জানান, ছেলেকে খুঁজতে প্রতিদিন হাসপাতাল ও মর্গে ছুটেছেন তারা। আল-আকসা হাসপাতাল, আল-আওদা হাসপাতাল এবং নুসেইরাত হাসপাতাল-এর মর্গেও খোঁজ করা হয়েছিল, কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারটি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সহায়তাও চেয়েছিল। কিন্তু কোনো সংস্থার কাছেই ঈদের আটক থাকার তথ্য ছিল না।


একপর্যায়ে পরিবার তাকে মৃত ধরে নেয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করা হয় এবং শোকপালনের আয়োজনও করা হয়েছিল। তবে ঈদের মা মাহা আবু শার কখনো আশা হারাননি। তিনি বলেন, সবাই তাকে গায়েবানা জানাজা পড়তে বললেও তার মন বলত ছেলে বেঁচে আছে। পরে মুক্তি পাওয়া এক সাবেক বন্দী কারাগারে ঈদকে দেখেছেন বলে জানান। এরপর গত ৪ মে এক আইনজীবীর ফোনে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ঈদ জীবিত আছেন।


এই খবর পাওয়ার পর পরিবারের শোকের পরিবেশ মুহূর্তেই আনন্দে রূপ নেয়। প্রতিবেশীদের মধ্যে মিষ্টিও বিতরণ করা হয়। তবে ছেলের জীবিত থাকার খবর পেলেও উদ্বেগ কাটেনি মাহা আবু শারের। তার ভাষায়, “আমি খুশি যে সে বেঁচে আছে। কিন্তু এখন ভয় হচ্ছে, কারাগারের ভেতরে সে কী সহ্য করছে। আমি তখনই শান্তি পাব, যখন তাকে আবার নিজের বুকে জড়িয়ে ধরতে পারব।”


ঈদের ঘটনা গাজার হাজারো নিখোঁজ পরিবারের অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর দ্য মিসিং অ্যান্ড ফোর্সিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ড-এর পরিচালক নাদা নাবিল জানান, বর্তমানে ৭ থেকে ৮ হাজার ফিলিস্তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন ইসরায়েলের কারাগারে গুম অবস্থায় থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নাদা নাবিলের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিদের তথ্য গোপন রাখা ইসরায়েলের পরিকল্পিত কৌশল, যা স্বজনহারাদের মানসিক কষ্ট আরও বাড়িয়ে তোলে। অনেক পরিবার জানতেই পারছে না, তাদের প্রিয়জন ধ্বংসস্তূপের নিচে, গণকবরে নাকি কারাগারে রয়েছেন। মনোবিজ্ঞানীরা এই পরিস্থিতিকে ‘সাসপেন্ডেড গ্রিফ’ বা ‘স্থগিত শোক’ বলে অভিহিত করেন।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘দাঁড়াও, এখানে কী করো তুমি?’—সিএনএন সাংবাদিককে ট্রাম্প

‘দাঁড়াও, এখানে কী করো তুমি?’—সিএনএন সাংবাদিককে ট্রাম্প