হামের পরীক্ষার চেয়েও বেশি জরুরি আক্রান্ত শিশুর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সব শিশুর জন্য ভিটামিন-এ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভিটামিন-এ ঘাটতি থাকলে শিশুরা হামে আক্রান্ত হলেও জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা আক্ষেপ করে বলেছেন, হামে আক্রান্ত শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও অনেক সময় পর্যাপ্ত ভিটামিন-এ পাচ্ছে না। যদি বস্তি এলাকার সব শিশুকে নিয়মিত ভিটামিন-এ দেওয়া যেত, তাহলে হামে আক্রান্ত হলেও তাদের অনেকটাই সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব হতো।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১২৮১ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ২৬০ জনে। একই সময়ে আরও ৭ জন শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে ২ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে এবং ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৪ জনে। এত শিশুর মৃত্যু নিয়ে চিকিৎসক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ পাচ্ছে।
এদিকে মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের বাইরে এক অভিভাবক জানান, তার ১১ মাস বয়সী সন্তান ছয় দিন ধরে আইসিইউতে আছে এবং নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক জানিয়েছেন, হাম পরীক্ষার কিট নিয়ে সংকট নয়, বরং সাময়িক স্বল্পতা রয়েছে এবং পরীক্ষার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিটের চেয়ে জরুরি হলো সময়মতো চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা। একই সঙ্গে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল নিয়মিত খাওয়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এদিকে ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহায়তায় ১৫ লাখ হামের টিকা দেশে এসেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসে আরও বিপুল পরিমাণ টিকা আসবে এবং শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন