রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পাইকপাড়া ভূমি অফিসের নায়েব কামরুজ্জামানের ঘুষ নেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া একই উপজেলার মোল্লাপাড়া ভূমি অফিসের অফিস সহকারী আব্দুল ওয়াদুদের বিরুদ্ধেও দর কষাকষি করে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি তাদের ঘুষ নেয়ার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে অভিযুক্ত কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়সারা তদন্ত কমিটি গঠন করে খালাস ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষরা এমনটাই দাবি ভুক্তভোগীদের।
সরেজমিনে একটি অনুসন্ধানী দল অনুসন্ধান চালিয়ে উপজেলার মঙ্গলপাড়া, মোল্লাপাড়া এবং ধোপাপাড়া এলাকার পাইকপাড়া ভূমি অফিসের এমন তথ্য তুলে এনেছে। উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অবস্থা খুব বেশি করুন।
অভিযোগে জানা যায়, রাজশাহীর পুঠিয়ায় ভূমি অফিসে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি কর্তৃপক্ষ। দু'একজনের বিরুদ্ধে শাস্তিস্বরূপ পাশের ভূমি অফিসগুলোতে বদলি করেই হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন কর্মকর্তারা; যা অনেকটাই লোক দেখানোর সামিল।
এ কারণে টাকা ছাড়া গ্রাহকদের সেবা দিতে চান না অফিস সহকারী থেকে শুরু করে ভূমি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক গ্রাহক। এ ছাড়া একই উপজেলার মোল্লাপাড়া ভূমি অফিসের অফিস সহকারী আব্দুল ওয়াদুদও গ্রাহকদের কাছ থেকে ভূমি সেবা দেয়ার নামে ঘুষ নেন দরকষাকষি করে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না ভূমি অফিসগুলোতে। প্রতিটা টেবিলে টাকা চাওয়া হয়। কোথাও ৩০০ আবার কোথাও ৫০০ টাকা চাওয়া হয়। এমনকি দালালদের জোকসাজসে খাজনা খারিজেও সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেন কর্মকর্তারা। এই চিত্র পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাঘা, তানোর, পবাসহ প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও।
তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঘুষ নেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন পুঠিয়া উপজেলার পাইকপাড়া ভূমি অফিসের নায়েব কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটা শোকজ করেছিল, এর জবাব আমি দিয়ে দিয়েছি।
এ দিকে ভূমি অফিসগুলোতে দালালের দৌরাত্ম কমিয়ে আনার পাশাপাশি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন বোয়ালিয়ার এলাকার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন মিয়া।
তিনি বলেন, কেউ বেশি অর্থ নিচ্ছে এমন লিখিত অভিযোগ আমার কাছে আসতে হবে। আমি যখন জানতে পারবো এতে কেউ জড়িত, তাহলে তাকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেব।
জেলায় ভূমি অফিসের সংখ্যা ৪৬টি। সংশ্লিষ্টরা জানান, অনলাইনে এখন জমিজমা সংক্রান্ত সব সেবা নেয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তি কমছে। অনেক গ্রাহক অনলাইন সিস্টেমের সঙ্গে পরিচিত না হওয়ার কারণে দালালদের ফাঁদে পড়ে অতিরিক্ত টাকা খোয়াচ্ছেন।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন