লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েল-এর বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে মোট ৩৯টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে। গোষ্ঠীটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বসতি এলাকা, সেনা সমাবেশ, সামরিক যানবাহন এবং দক্ষিণ সীমান্তসংলগ্ন প্রতিরক্ষা অবস্থান। উত্তর ইসরায়েলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও এই অভিযানের আওতায় ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, হামলাগুলো ছিল পরিকল্পিত এবং ইসরায়েলি সামরিক সক্ষমতা ব্যাহত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান ও চলাচলের ওপর নজরদারি চালিয়ে এসব হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
তবে এসব দাবির বিপরীতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেনি। সাধারণত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকলেও এই হামলাগুলোর সংখ্যা বা প্রভাব নিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি। সাম্প্রতিক সময়ে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের অবস্থান লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এক দিনে ৩৯টি অভিযানের এই দাবি হিজবুল্লাহর ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার ইঙ্গিত দিতে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েলও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি জোরদার করেছে। এই সংঘাতের প্রভাবে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দারা নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক মহল থেকে বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত এই সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র: আল জাজিরা
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন