টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী কলিমাজানি বাজার সংলগ্ন লৌহজং নদীর ওপর নির্মাণাধীন পাকা সেতুর কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। দেড় বছরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ বছর পার হয়ে যাওয়ায় এটি এখন এলাকাবাসীর জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুটির গার্ডার স্থাপন এবং দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় পুরো প্রকল্পটি অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ফলে গোড়াই, বহুরিয়া ও ভাওড়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকা এবং শুকনো সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র ভরসা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অসমাপ্ত সেতুর কারণে কলিমাজানি বাজার এলাকায় মানুষের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২১ সালে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.৮ মিটার প্রস্থের এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির দায়িত্ব পায় মেসার্স সালাম এন্টারপ্রাইজ। তবে কিছু কাজ করার পর নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। এতে করে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুটি চালু না হওয়ায় শুধু তিনটি ইউনিয়নই নয়, আশপাশের ধামরাই ও কালিয়াকৈর উপজেলার মানুষও ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজ শেষ হচ্ছে না এবং এতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে আবার কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. মনিরুল সাজ রিজন জানিয়েছেন, অর্থসংকট ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে কাজ বন্ধ ছিল। অতিরিক্ত বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে এবং কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন