পূর্ব সুন্দরবনে মধু আহরণের মৌসুম শুরু হলেও এ বছর আশানুরূপ উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বনদস্যুদের আতঙ্কে অনেক মৌয়াল সুন্দরবনে যেতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ মাঝপথ থেকেই ফিরে আসছেন। রোববার বিকেলে শরণখোলা থেকে মাত্র ৭০ জন মৌয়াল মধু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনের পথে যাত্রা করেছেন। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে মধু আহরণ শুরু হলেও অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। মৌয়ালদের একটি বড় অংশ জানান, বনদস্যুদের কবলে পড়লে মুক্তিপণ হিসেবে দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এ কারণে অনেকেই এবার নৌকার পাস নেননি। পাশাপাশি মধু ব্যবসায়ীরাও ঝুঁকির কারণে আগাম দাদনের টাকা দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রাসেল আহমেদ, রিপন বয়াতী ও মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত কয়েক মাসে সুন্দরবনে দস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় মৌয়ালদের মধ্যে ভয়-ভীতি তৈরি হয়েছে। শরণখোলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত মাত্র ১০টি নৌকায় পাস নেওয়া হয়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে প্রায় ৬০টি নৌকা পাস নিয়েছিল। রোববার বনরক্ষীদের নিরাপত্তায় ১০টি নৌকায় ৭০ জন মৌয়ালকে সুন্দরবনে পাঠানো হয়।
চাঁদপাই রেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, ১১টি নৌকায় ৮০ জন মৌয়াল গেলেও একটি নৌকা তিন দিনের মাথায় ফিরে এসেছে। বনদস্যুদের চাঁদা দাবির কারণেই তারা ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মৌয়াল কালাম খা। এছাড়া ১৮টি নৌকার মধ্যে ৫টি নৌকা মধু সংগ্রহ না করেই ফিরে এসেছে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, দস্যু তৎপরতার কারণে মৌয়ালের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ বছর মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪৯ কুইন্টাল এবং মোম ১০৪ কুইন্টাল।
তিনি আরও জানান, মৌয়ালদের নিরাপত্তায় বনরক্ষীদের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং কোনো সমস্যা হলে দ্রুত বন বিভাগকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন