মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশও জ্বালানি আমদানিতে চাপের মুখে পড়েছে। সরবরাহ অনিশ্চয়তা, মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার কারণে আগামী এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার। জ্বালানি বিভাগ ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের দেশগুলো থেকে তেল আমদানির আলোচনা চলছে। তবে অধিকাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দ্রুত ডেলিভারির নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। বর্তমানে দেশের অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় ৮০ শতাংশ এবং এলপিজির বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই রুটে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
বিপিসি ইতিমধ্যে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএ) জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। ১১টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার পর এখন পর্যন্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আংশিক সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড থেকে ১ লাখ টন ডিজেল এবং সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল থেকে ২ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কাজাখস্তান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের একাধিক প্রস্তাব থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই সরবরাহের সময়সূচি অনির্দিষ্ট রয়ে গেছে।
বিপিসি কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ের মতো এবারও বিকল্প উৎসে নির্ভরতা বাড়ছে, তবে এবার প্রতিযোগিতা আরও বেশি হওয়ায় ঝুঁকিও বেড়েছে। সরকার এখন দীর্ঘমেয়াদে কাজাখস্তান ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে সরকার-থেকে-সরকার (জিটুজি) চুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেশি হলেও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে এলপিজি ও এলএনজি বাজারেও চাপ বেড়েছে। দেশে প্রতি মাসে প্রায় ১.৫ লাখ টন এলপিজির চাহিদা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিকল্প দেশ থেকে আমদানিতে খরচ ও প্রিমিয়াম বেড়েছে।
অন্যদিকে এলএনজির আন্তর্জাতিক দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও এপ্রিল পর্যন্ত কয়েকটি কার্গো আসার সময়সূচি নিশ্চিত হয়েছে, এরপর পরিস্থিতি অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক বাজারের এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি খরচ আরও বাড়বে এবং শিল্প ও ভোক্তা পর্যায়ে এর চাপ পড়বে।
সূত্র: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি বিভাগীয় তথ্য।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন