ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত ষষ্ঠ দিনে পৌঁছেছে। প্রথম দফার অতর্কিত হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ধারাবাহিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। ফলে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে লেবানন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত সংঘর্ষে এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে ইরানি হামলার পর জ্বালানি সংরক্ষণাগারের কাছে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে ওই এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তারা তিনটি ইরানি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিরোধ করার পর আল খার্জ শহরের বাইরে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর প্রথম দুই দিনেই প্রায় এক লাখ মানুষ তেহরান ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। লেবাননেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে প্রায় ৫৮ হাজার মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যের বাড়ি, রাস্তা বা খোলা জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে সিরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২ মার্চের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার সিরীয় নাগরিক এবং প্রায় এক হাজার লেবানিজ নাগরিক সীমান্ত পেরিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দ্রুত থামানো না গেলে এটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আরও বড় আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন