বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে বলা হয় নেতৃত্বের অন্যতম নার্সারি। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলো, তখন সেই নেতৃত্বের নার্সারি থেকে উঠে আসা পাঁচজন সাবেক ছাত্রনেতার কাঁধে পড়ল রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মঙ্গলবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় একসময়ের রাজপথ কাঁপানো পাঁচজন ছাত্রনেতার অন্তর্ভুক্তিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা দেখছেন তারুণ্যের জয়যাত্রা এবং প্রজন্মগত ভারসাম্য হিসেবে।
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া এই পাঁচ নেতা একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের ক্যাম্পাস রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তাঁদের মধ্যে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, যিনি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং যুবদলের সাবেক শীর্ষ নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব আহসানও হাবিবুর রশিদের সঙ্গে একই মন্ত্রণালয়ে অর্থাৎ সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ফরহাদ হোসেন আজাদ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে কাজ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায়, যেখানে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন, সেখানে ৪১ জনকেই নতুন মুখ হিসেবে এনে চমক দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে পাঁচজন সাবেক ছাত্রনেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা কেবল পুরস্কার নয়, বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল। এই পাঁচ নেতাই গত ১৫ বছরে বিএনপির প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তাঁদের কারাবরণ এবং ত্যাগকে দল মূল্যায়ন করেছে। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতাদের সাথে দলের তৃণমূল কর্মীদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে, যা সরকারকে সাধারণ মানুষের পালস বুঝতে সাহায্য করবে। এছাড়া ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে যে সাংগঠনিক দক্ষতা তৈরি হয়, তা সচিবালয়ের দাপ্তরিক কাজে গতিশীলতা আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ছাত্রদলের সাবেক এই নেতাদের নিয়ে কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা থাকলেও সাধারণ নাগরিকদের প্রত্যাশা অনেক। বিশেষ করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে নদী খনন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সার-বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হাবিবুর রশিদ ও রাজীব আহসানের মতো নতুন প্রজন্মের নেতাদের সড়কের চাঁদাবাজি বন্ধ ও পরিবহন সংস্কারের ওপর নজর থাকবে পুরো দেশের। ফরহাদ হোসেন আজাদকে গুরুত্ব দিতে হবে দখলমুক্ত জলাশয় ও খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন