অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অত্যন্ত কৌশলীভাবে অর্থপাচার সংঘটিত হলেও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচিত সরকার আন্তরিক হলে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা বাস্তবসম্ভব। মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে আস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রশাসনের একাংশ পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করছে—এমন অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, কোনো ধরনের সাজানো বা প্রহসনমূলক নির্বাচন হলে তা তার দল গ্রহণ করবে না।
মঙ্গলবার সকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান। এর আগে সকাল ১১টার দিকে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ইইউ’র ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কার্যালয়ে আসে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে নির্বাচনের প্রস্তুতি, সার্বিক পরিবেশ এবং কোনো ধরনের হুমকি বা নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে জুবায়ের বলেন, নির্বাচনী মাঠে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর অভাব স্পষ্ট। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একটি অংশ নিরপেক্ষতার সীমা অতিক্রম করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ অবস্থা থেকে সরে না এলে জামায়াত তাদের অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে জানাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে দুর্বল আখ্যা দিয়ে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। অস্ত্র উদ্ধারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়ায়। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। পাশাপাশি ১৫টি নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন।
জুবায়ের আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও তুরস্কসহ আরও কয়েকটি দেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল শিগগিরই জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শনে আসবে।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সম্পদের বিবরণী আগামী দু–এক দিনের মধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রকাশ করতে পারে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছরে বাংলাদেশকে এমন অবস্থানে নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে দেশ আরো দ্রুত অগ্রগতির পথে এগোতে পারবে।তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার চাইলে বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারবে এবং এ বিষয়ে তাঁদের কোনো আপত্তি থাকবে না।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা জানান, আবার সরকারে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত নন; তবে শিক্ষকতা পেশায় ফেরার প্রস্তাব রয়েছে। নিজের কর্মকালীন মূল্যায়নে তিনি বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে নিজের কাজের জন্য তিনি ১০০-এর মধ্যে ৭০ নম্বর দেবেন। অনেক কাজ পরিকল্পনায় থাকলেও সব সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, বিশেষ করে এনবিআর সংস্কার পুরোপুরি শেষ করা যায়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও কার্যকর স্বায়ত্তশাসন চাইছে। একই সঙ্গে সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করছে।প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই সেবা আর কোনো একক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না; বিদ্যালয়গুলো নিজেরাই উপযুক্ত ব্যবস্থা নির্ধারণ করতে পারবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন