ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই সতর্ক পাহারাদারি শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের ভোট জালিয়াতি, ভোটচুরি কিংবা অবৈধ কৌশলের মাধ্যমে যেন জনগণের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঢাকা–১৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, “এখন থেকেই ভোটের পাহারা দিতে হবে। বিজয়ের মালা গলায় পরিয়ে দিয়েই ঘরে ফিরবেন—তার আগে নয়।”সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা–১৩ আসনের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহফুজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যিনি ঢাকা–১১ আসনের প্রার্থী।
১১ দলীয় ঐক্য গঠনের পেছনে জনগণের আকাঙ্ক্ষাই মূল শক্তি বলে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের চেতনা ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে সামনে রেখেই আমরা একত্রিত হয়েছি। এই ঐক্য চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে। জনগণ যখন এক হয়, বিজয় তাদেরই হয়—ইনশাআল্লাহ।”
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ও রেকর্ডিং ডিভাইস নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় যেমন ইন্টারনেট বন্ধ করে অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল, আজ আবার সেই একই অন্ধকার পথে হাঁটার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। কার ইশারায় নির্বাচন কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে—তা জনগণ জানতে চায়।”
তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সব ধরনের ক্যামেরা ও মোবাইল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। “জুলাইয়ের অপকর্ম যেমন মেনে নেওয়া হয়নি, আজও তা মেনে নেওয়া হবে না,”—বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলামের ঘোষণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “আজ সন্ধ্যার আগেই যদি এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না করা হয় এবং জনগণকে স্পষ্ট বার্তা না দেওয়া হয়, তাহলে আগামীকাল নির্বাচন নয়—বরং যারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হবে। এর দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।”
একটি পক্ষ পরাজয়ের আশঙ্কায় নির্বাচনকে ভিন্ন পথে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “হেরে যাওয়ার ভয়ে তারা গুন্ডা লেলিয়ে দিচ্ছে, অস্ত্রের মজুদ গড়ছে এবং ভোটকেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “জুলাই যোদ্ধারা ঘুমিয়ে নেই। তারা এখনো সজাগ। জনগণের ভোট ছিনতাই করার দুঃসাহস কেউ দেখাবেন না।”ঢাকা–১৩ আসনকে মর্যাদাপূর্ণ এলাকা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “দুঃখজনকভাবে কিছু অসাধু চক্র এই এলাকাকে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসের আখড়ায় পরিণত করেছে। তরুণদের বিভ্রান্ত করে অপরাধে জড়ানো হচ্ছে। আমরা তাদের সংশোধন করে সম্মানিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।আমরা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়—১৮ কোটি মানুষের পক্ষে নির্বাচনে নেমেছি। নির্বাচিত হলে কোনো দলীয় সরকার নয়, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব। আমাদের লক্ষ্য কোনো দলের জয় নয়—১৮ কোটি মানুষের বিজয়।”
একটি গোষ্ঠী ব্যক্তি ও পরিবারের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “জনগণ তাদের অতীত দেখেছে, বর্তমানও দেখছে। শান্তিপ্রিয় মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। যারা জনগণের পক্ষে, জুলাই আকাঙ্ক্ষার পক্ষে—জনগণ তাদেরই বেছে নেবে। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জুলাই আকাঙ্ক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “১২ তারিখেও বাংলাদেশ সেই চিত্র দেখবে। কেউ যদি ভয়ে চোরাই পথে হাঁটতে চায়—এই জাতি তা মেনে নেবে না। সেই পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন