সারা বিশ্বে বাড়ছে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা। বাংলাদেশেও এ রোগে আক্রান্ত মানুষের হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এ রোগ একপ্রকার নীরব ঘাতক, যা ধীরে ধীরে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তবে সচেতনতা ও নিয়ন্ত্রিত জীবনধারার মাধ্যমে এই রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইপ ২ ডায়াবেটিস মূলত একটি বিপাকজনিত রোগ। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পরিমাণে ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা উৎপন্ন ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ করে না। এর ফলে রক্তে চিনি (গ্লুকোজ) জমে গিয়ে নানা জটিলতা সৃষ্টি করে।
প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে— অতিরিক্ত তৃষ্ণা লাগা, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, অতিরিক্ত ক্ষুধা, ক্লান্তি, ক্ষত শুকাতে বিলম্ব, ঝাপসা দৃষ্টি এবং ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি। তবে অনেক সময় এই লক্ষণগুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় না, ফলে রোগটি অনেকের অজান্তেই শরীরে বাসা বাঁধে।
চিকিৎসকরা বলছেন, টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে রয়েছে যাদের ওজন বেশি, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, যাদের পরিবারের মধ্যে ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে, যাদের বয়স ৪০ বছরের ওপরে এবং যারা উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলে ভোগেন।
টাইপ ২ ডায়াবেটিস সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি হারানো, পায়ের পচন এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে বলে জানান চিকিৎসকেরা।
তবে এই রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এ ক্ষেত্রে যা করতে হবে:
- নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া (ফলমূল, শাকসবজি, আঁশযুক্ত খাবার)
- অতিরিক্ত চিনি, চর্বি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা
- প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
- নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা
- প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে কয়েক কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, এ রোগের কোনো নিরাময় না থাকলেও এটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য। সময়মতো শনাক্ত ও সচেতন জীবনধারা অবলম্বনের মাধ্যমে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ভয়াবহতা রোধ করা সম্ভব।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন