দেশের ৫৪তম ও বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। সোমবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের মাধ্যমে পূর্ব-রেকর্ডকৃত বাজেট ভাষণ সম্প্রচার করা হয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত উন্নয়ন বাজেটে (এডিপি) ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির চেয়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা কম। তবে গত অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় এডিপির আকার ১৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই বাজেটের আওতায় সরকারি তহবিল থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ৮৬ হাজার কোটি টাকা জোগান দেওয়া হবে।
উন্নয়ন ব্যয়ে অগ্রাধিকার পাচ্ছে পাঁচটি প্রধান খাত, যেখানে মোট বরাদ্দের প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত পেয়েছে সর্বোচ্চ ২৫.৬৪ শতাংশ বা ৫৮ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৪.০৮ শতাংশ বা ৩২ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। শিক্ষা খাত বরাদ্দ পেয়েছে ২৮ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১২.৪২ শতাংশ। গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে বরাদ্দ ২২ হাজার ৭৭৬ কোটি এবং স্বাস্থ্য খাতে ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা।
এডিপির আওতায় মোট ২ লাখ ১৫ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সরকার এ বছর উন্নয়ন ব্যয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করেছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, যোগাযোগ ও জ্বালানি খাতে বড় আকারে বরাদ্দ রাখা হলে দেশের অবকাঠামো ও শিল্পখাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ধারাবাহিক বরাদ্দ দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন