রাজনীতিতে সংঘাত কিংবা পরস্পরকে দোষারোপ করে কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব নয়— এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবার উচিত অর্থবহ ও দায়িত্বশীল সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা।
শনিবার সকালে রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “জাতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়াটা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বর্তমানে উদ্ভূত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট জামায়াত গভীর মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে, যদিও আমরা উদ্বিগ্ন নই।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পূর্ববর্তী প্রশাসনের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট সম্পর্কে একধরনের অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনে অবশ্যই কাঙ্ক্ষিত সংস্কার প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত সেই লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে কোনো রূপরেখা সামনে আসেনি।”
এ সময় তিনি আরও বলেন, “যদি নির্বাচন জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে তারা সেই প্রক্রিয়াকে প্রত্যাখ্যান করবে। আমরা এমন কোনো লোক দেখানো নির্বাচন চাই না।”
মানবিক করিডর বিষয়ক সরকারের অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, “এই করিডর কেবল একটি মানবিক বিষয় নয়, বরং এতে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই সরকার যেন সকল পক্ষের মতামত নিয়ে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, সেটাই আমরা চাই।”
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা যে বলেছেন, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে— আমরা তাতে আস্থা রাখতে চাই। কারণ, তিনি রাজনীতির প্রতিপক্ষ নন, বরং দেশের দায়িত্বশীল অভিভাবক। রাজনৈতিক দলসমূহ মিলে তাকে দায়িত্ব দিয়েছে, তাই আমাদের উচিত এই সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করা।”
তিনি অভিযোগ করেন, “পূর্ববর্তী সরকার মানুষের মৌলিক অধিকার এবং ভোটাধিকার হরণ করেছে। সেই সময়ে নির্বাচন ছিল শুধুই একটি প্রহসন। জনগণ আজ একটি বাস্তব ও স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে। পাশাপাশি বিগত সময়ে সংঘটিত গণহত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়াও এখন সময়ের দাবি।”
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন