দেশের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নগদের প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার হিসাব মেলানো যাচ্ছে না বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এই বিপুল অঙ্কের অর্থের গরমিল নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
খবরে বলা হচ্ছে, এক অদৃশ্য কোম্পানি। যেখানে চেয়ারম্যান চিনেন না এমডিকে। আবার এমডি চেনেন না চেয়ারম্যানকে। অফিসের ঠিকানাও ভুয়া। কাগজে-কলমে থাকলেও আদতে প্রতিষ্ঠানেরই অস্তিত্ব নেই। অথচ সেই প্রতিষ্ঠানের নামে দেশি-বিদেশি ডজন খানেক ছদ্মবেশী কোম্পানিতে বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান নগদ। তবে বিনিয়োগের টাকার কানাকড়িও আর দেশে ফেরেনি। চলে গেছে তৃতীয় কোনো দেশে। এভাবেই গেল ৮ বছরে দেশের লাখ লাখ গ্রাহকের আমানতের শত শত কোটি টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছেন নগদ সিন্ডিকেট।
নগদের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দলের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই আর্থিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তবে, ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে এত বড় অঙ্কের হিসাব অমিল হলো, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্রটি জানিয়েছে, এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের র্শীষ নেতা ও তাদের অনুসারীরা। এমনকি নগদ অপকর্মে জড়িয়ে গিয়েছিল শেখ হাসিনা সরকারের সরকারি কর্মকর্তারাও। জড়িত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর একজন উপ প্রেস সচিবও।
এই ঘটনাটি নগদের আর্থিক স্বচ্ছতা এবং পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের আস্থা ধরে রাখার জন্য এই ধরনের আর্থিক গরমিলের দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, "যদি সত্যিই এত বড় অঙ্কের হিসাবের গরমিল হয়ে থাকে, তবে এটি একটি গুরুতর বিষয়। এর তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।"
নগদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে, গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আর্থিক গরমিলের কারণ এবং এর পরবর্তী প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য সকলের দৃষ্টি এখন নগদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির দিকে।
উল্লেখ্য, নগদ অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবাখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে। এই ধরনের আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির সুনাম এবং গ্রাহক আস্থার উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন