ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন ‘আব কী বার, চার শ’ পার’ (এবারে চার শ’ ছাড়িয়ে যাব) স্লোগান দিয়ে প্রচার শুরু করেছিলেন, তখন তিনি তার বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের জন্য ৪০০টিরও বেশি আসনে জয়ী হওয়ার লক্ষ্য রেখেছিলেন।
সবচেয়ে আশাবাদী বুথ ফেরত জরিপও পূর্বাভাস দিয়েছিল যে তার জোট ৪০০ আসনে জয়ী হবে।
যাইহোক, প্রাথমিক ভোট গণনা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনে বিরোধী মধ্য বামপন্থী ইন্ডিয়া জোটের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।
ভারতের ৫৪৩ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২৭২টি আসন। এনডিএ ওই পর্যন্ত পৌঁছাবে কিনা তা নিয়ে ইতোমধ্যেই সংশয় তৈরি হয়েছে।
দুই জোটের মধ্যে ব্যবধান প্রত্যাশার চেয়ে কমে আসছে বলে মনে হচ্ছে, প্রাথমিকভাবে মাত্র ৬০ থেকে ৭০টি আসনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
নরেন্দ্র মোদি এবারের নির্বাচনে জয়ী হলে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মতো টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হবেন।
বিজেপি'র নির্বাচনি প্রচারণায় সরকারের কল্যাণমুলক কর্মসূচি, হিন্দু জাতীয়তাবাদ, জাতীয় নিরাপত্তাসহ মোদির ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হলেও মোদি তার প্রচারণার দিক পরিবর্তন করে বিভাজনমূলক বক্তব্য দেন, যা তার কৌশলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
মোদি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের বিরুদ্ধে মুসলমান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে খুশি করার অভিযোগ আনেন।
বুথফেরত জরিপগুলো বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোটের পুনরায় ক্ষমতায় আসার পূর্বাভাস দিয়েছে এবং মোদিকেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বলেই মনে হচ্ছে।
তবে বিরোধী দলগুলো বলছে যে- তিনি ক্ষমতায় থাকলে ভারতীয়রা তাদের স্বাধীনতা হারাবে।
বিরোধীরা বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে না পারার অভিযোগ তোলে।
এক দশক ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিরোধীরা তাদের নির্বাচনি প্রচারণায় বিজেপি সরকারের পদ্ধতিগত বৈষম্যের উপর জোর দিয়েছে।
বিরোধীরা টানা তৃতীয় মেয়াদে পরাজিত হলে সেটা দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হবে, ফলে কংগ্রেস পার্টিতে ঝুঁকির মুখে পড়বে রাহুল গান্ধির নেতৃত্ব।
সূত্র : বিবিসি
বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন