বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে মানিকগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন মুক্তিযোদ্ধারা।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৈয়দ আবুল বাশার, মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মনছুর উদ্দিন আহম্মদ, ঢাকা মহানগর এরিয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল বাশার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যসচিব মো. শহিদুল হক, সাংগঠনিক কমান্ডার সরফুদ্দিন আহম্মদ নুরু এবং শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জালাল উদ্দিন ও আব্দুর রশিদ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করেছেন। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।
মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মনছুর উদ্দিন আহম্মদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশে জামায়াত-শিবিরকে চলাফেরার সুযোগ দেওয়া হলেও তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এখন প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রয়োজনে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের জবাব সংশ্লিষ্টদের দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে মুক্তিযোদ্ধারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। দেশের যেকোনো স্থানে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তাঁরা।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন