ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে দাবি করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেই দাবির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপসহ একাধিক এলাকায় মার্কিন বাহিনীর নতুন হামলার খবর সামনে এসেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট আকারের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তাহলে কি যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও বাড়ছে?
সোমবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপসহ কয়েকটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে কেশম দ্বীপ এবং উপকূলীয় শহর বান্দর লেঙ্গেহসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
তবে এসব হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত পরিসরে হামলা অব্যাহত রেখেছে মার্কিন বাহিনী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা। তাদের দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরান যাতে হুমকি তৈরি করতে না পারে, সেই সক্ষমতা সীমিত করতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ হয়েছিল এবং সেই যুদ্ধে আমেরিকা জয়ী হয়েছে। তাঁর ভাষায়, কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে কোনো যুদ্ধ চলছে না।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক হামলার খবর নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। একদিকে যুদ্ধ শেষ হওয়ার দাবি, অন্যদিকে ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক অভিযান—দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন