ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ১৫, আহত ৩২ কীসের আশঙ্কায় খাবার-পানি মজুতের নির্দেশ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ? ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনায় ওয়াশিংটনকে মস্কোর কড়া হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ফের যুদ্ধের শঙ্কা, বাড়ছে উদ্বেগ মধুখালীতে স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, দেড় মাস পর ভুক্তভোগীর মৃত্যু তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় দীপ ও তরুণী দিশাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের নেপথ্যে চাঁদা, দখলবাজি অগ্নিপরীক্ষায় ডোনাল্ড ট্রাম্প, চ্যালেঞ্জে ডেমোক্র্যাটরা বান্ধবীর সঙ্গে ঝগড়ার পর টঙ্গীর মাঠে যান তাহসিফ

ফ্রান্সে ছুটি শেষে আবার শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

দুই সপ্তাহের ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতেই আবারও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্সের উচ্চ বিদ্যালয়গুলো। তবে আগের তুলনায় এবার
  • আপলোড সময় : ৩ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫১ সময়
  • আপডেট সময় : ৩ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫১ সময়
ফ্রান্সে ছুটি শেষে আবার শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

দুই সপ্তাহের ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতেই আবারও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্সের উচ্চ বিদ্যালয়গুলো। তবে আগের তুলনায় এবার আন্দোলনের পরিসর কিছুটা ছোট। স্কুল সংস্কার, শিক্ষক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়ানোর দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তাতে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। বরং নতুন করে দেশজুড়ে অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।


সোমবার (২ নভেম্বর) ফ্রান্সের প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪১টি বিদ্যালয় অবরুদ্ধ করা হয়। অর্থাৎ দেশটির মোট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় এক শতাংশে বিক্ষোভ ও অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। প্যারিস, মার্সেই এবং রেনস শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধের চেষ্টা চালান শিক্ষার্থীরা। এর আগে দুই সপ্তাহের ছুটির আগের কয়েক সপ্তাহে শত শত বিদ্যালয় অবরুদ্ধ করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। ফলে এবার বিক্ষোভের পরিসর কম হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ গেফ্রে বলেছেন, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধের চেষ্টা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তবে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া আইনবিরুদ্ধ। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, চলমান পরিস্থিতির কারণে কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


গত সেপ্টেম্বর মাসে প্যারিসের উপকণ্ঠে শুরু হয়েছিল এই আন্দোলন। পরে তা ধীরে ধীরে পুরো ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শিক্ষার দাবির পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও সাধারণ আন্দোলনকারীরাও যুক্ত হন। কিছু এলাকায় বিক্ষোভ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে জরাজীর্ণ বিদ্যালয় সংস্কার, অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অন্যায্য বলে বিবেচিত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ব্যবস্থার পরিবর্তন।


আন্দোলনের মুখে গত সপ্তাহে ফ্রান্স সরকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। ২০২৮ সালের মধ্যে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পদ্ধতি ধাপে ধাপে পরিবর্তনের পরিকল্পনা জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষা খাতে পদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত বাতিল, অতিরিক্ত ৫০০টি পদ সৃষ্টি এবং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে প্রতি শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ২৮ জন শিক্ষার্থী রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয় সংস্কারে ৪০০ কোটি ইউরো এবং উচ্চশিক্ষায় ১৫ হাজার নতুন আসন তৈরির ঘোষণাও দিয়েছে সরকার।


তবে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের দাবি, সরকারের এসব প্রতিশ্রুতি প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। তাই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার নতুন করে বিদ্যালয় অবরোধের ডাক দিয়েছে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো। পাশাপাশি মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও দেশজুড়ে অবরোধ কর্মসূচির আহ্বান জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতির পরও ফ্রান্সের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আন্দোলন থামার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আগামী দিনগুলোতে এই বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পেনাল্টি অনুশীলন ছাড়াই সিটির জয়, নায়ক গোলকিপার রুলি

পেনাল্টি অনুশীলন ছাড়াই সিটির জয়, নায়ক গোলকিপার রুলি