ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু: টাকার কার্লসন

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে তৈরি হয়েছে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা। ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালাতে
  • আপলোড সময় : ২ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ৩:৯ সময়
  • আপডেট সময় : ২ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ৩:৯ সময়
ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু: টাকার কার্লসন

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে তৈরি হয়েছে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা। ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাকার কার্লসন। তাঁর দাবি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে ওয়াশিংটন। তবে এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি।


সোমবার, ২ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কার্লসন বলেন, ইরানের মধ্যাঞ্চলের পিকঅ্যাক্স পর্বত হতে পারে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু। তাঁর দাবি, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা মনে করছে, ওই এলাকায় ইরান আবারও তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালু করেছে। কার্লসনের যুক্তি, পিকঅ্যাক্স পর্বতের নিচে পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে ধারণা করা হয়। সেখানে রয়েছে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ। সাধারণ মার্কিন অস্ত্র দিয়ে পাহাড়ের শক্ত গ্রানাইট ভেদ করে এসব সুড়ঙ্গে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ কারণেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।


টাকার কার্লসন আরও দাবি করেন, নেতানিয়াহু প্রতিদিনই ট্রাম্পকে ফোন করে এ ধরনের সামরিক অভিযানের জন্য চাপ দিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী চান, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিক। তবে কার্লসনের এসব বক্তব্যের পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য নথি বা সরাসরি প্রমাণ দেওয়া হয়নি। এমনকি নেতানিয়াহু সত্যিই ট্রাম্পকে পারমাণবিক হামলার জন্য চাপ দিচ্ছেন কি না, সেটিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


কার্লসন তাঁর পোস্টে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও এই সামরিক চাপের বিষয়টি যুক্ত করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে এবং ক্ষমতায় থাকতে নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন। এ ছাড়া মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকে সমর্থন করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সেন্টকম কমান্ডার ব্র্যাড কুপার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের নাম উল্লেখ করেন কার্লসন।


এদিকে কার্লসনের দাবি, ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের সমর্থন চাইতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর গোপনে আবুধাবি সফর করেছিলেন নেতানিয়াহু। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি বলে দাবি তাঁর। সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার ভয়াবহ পরিণতি নিয়েও সতর্ক করেছেন কার্লসন। তাঁর আশঙ্কা, পিকঅ্যাক্স পর্বতে ভূপৃষ্ঠের বিস্ফোরণ ঘটলে পারস্য উপসাগরের পরিবেশ ও পানির উৎস দূষিত হতে পারে। এতে প্রায় ১০ কোটি মানুষের পানি সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে অন্য দেশগুলোও একই পথে হাঁটার যুক্তি পেতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। রাশিয়া নাকি কয়েকটি সরকারকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে পারমাণবিক হামলা চালালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে—এমন দাবিও করেছেন কার্লসন। তবে এই বক্তব্যেরও স্বাধীন প্রমাণ দেওয়া হয়নি।


অন্যদিকে, অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। সেখানে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনে আবার সামরিক অভিযানে ফেরার বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে হামলা চালানোর জন্য চাপ দিয়েছেন নেতানিয়াহু। পরে ট্রাম্প ওই ফোনালাপকে ‘খুব ভালো আলোচনা’ বলে বর্ণনা করেন। এর আগে ট্রাম্পও পিকঅ্যাক্স পর্বত নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।


তবে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনীতির পথও খোলা রাখার কথা বলছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনীতিকে বেছে নেবে। কার্লসনের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এখনও মনে করেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তাই পারমাণবিক হামলার মতো ভয়াবহ ঝুঁকি না নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।


সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা—দুই দিকেই নজর রাখছে বিশ্ব। তবে টাকার কার্লসনের পারমাণবিক হামলার দাবিগুলো এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমনটি নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পেনাল্টি অনুশীলন ছাড়াই সিটির জয়, নায়ক গোলকিপার রুলি

পেনাল্টি অনুশীলন ছাড়াই সিটির জয়, নায়ক গোলকিপার রুলি