হারিয়ে যেতে বসা বাংলার ঐতিহ্য কি আবারও ফিরে আসবে নতুন প্রজন্মের হাত ধরে? গ্রামবাংলার বাউল গান, ভাটিয়ালি, জারি-সারি থেকে শুরু করে পিঠা উৎসব, ঘুড়ি ওড়ানো—সবকিছুর সমন্বয়ে এবার দেশজুড়ে আয়োজন করা হচ্ছে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসব। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে একযোগে সারা দেশে শুরু হচ্ছে এই আয়োজন। এতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য-সংস্কৃতির পাশাপাশি জায়গা পাবে আধুনিক ব্যান্ড সংগীতও।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের জয়নুল আবেদিন পার্কের বৈশাখী মঞ্চে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা লোকজ সংস্কৃতি ও হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরাই এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য। এতে ভাটিয়ালি, জারি, সারি, বাউল গান ও লোকসংগীতের পাশাপাশি থাকবে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব এবং ঘুড়ি ওড়ানোর আয়োজন। তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক ব্যান্ড সংগীতও।
তিনি বলেন, গ্রাম ও শহরের অনেক সাংস্কৃতিক ধারা এখন অবহেলা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারিয়ে যাওয়ার পথে। এসব ঐতিহ্যকে আবারও সক্রিয় করতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশের সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি বর্তমানে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিকাশের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত পরিচর্যা ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা। সংগীত, নৃত্য, কবিতা ও লোকঐতিহ্যের বিকাশে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না থাকলে এসব চর্চা এগিয়ে নেওয়া কঠিন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনকে এগিয়ে নিতে বিশেষ আগ্রহী। এ বিষয়ে তিনি নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এদিকে জাতীয় পর্যায়ে চলছে নজরুল বর্ষ উদযাপনের নানা কর্মসূচি। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের আয়োজন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নভেম্বরের শেষ দিকে শুরু হবে জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠান। পাশাপাশি ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করতে যাত্রা, সার্কাস ও শিল্পকলার মতো ঐতিহ্যবাহী মাধ্যমগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলতে পারে। সবশেষে তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এ কাজে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্ব শেষে লোকশিল্পী কুদ্দুস বয়াতির পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী গুরু-শিষ্য পালাগানের মধ্য দিয়ে লোকজ সংস্কৃতির বর্ণিল আয়োজন উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন