মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি ফিরছিল মাত্র আট ও ছয় বছরের দুই বোন। কিন্তু বাড়ি ফেরা আর হলো না তাদের। মহাসড়কের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যানের চাপায় প্রাণ হারাল দুই শিশু। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর চালক গাড়িসহ পালিয়ে গেছেন। আর সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসতেই দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর সকালে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার পশ্চিম তালদিঘী এলাকায় ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুই বোনের নাম আরবিয়া আক্তার ও রাবিয়া আক্তার। আরবিয়ার বয়স আট বছর, আর রাবিয়ার ছয়। তারা স্থানীয় তালদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তাদের বাবা মোখলেসুর রহমান ফকির এবং মা ফাতেমা আক্তার। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালেও গৃহকর্মীর কাজে বাড়ি থেকে বের হন ফাতেমা আক্তার। মায়ের পেছন পেছন দুই মেয়েও তালদিঘী মডেল মসজিদ পর্যন্ত যায়। সেখানে মা তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। এরপর দুই বোন মহাসড়কের পাশ দিয়ে হাঁটতে থাকে। ঠিক সেই সময় শেরপুরের দিকে যাওয়া একটি দ্রুতগতির কাভার্ড ভ্যান তাদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই শিশুর।
দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে দুই শিশু সড়কের পাশ ধরে হাঁটছিল। এ সময় নীল ও হলুদ রঙের একটি কাভার্ড ভ্যান তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ ঘটনাটি দেখে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দেওয়ার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে এ ধরনের দাবি এখনো প্রমাণিত নয়। তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুর রাশিদ জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তার ধারণা, কাভার্ড ভ্যান চালানোর সময় চালক হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। সে কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। দুর্ঘটনার পর চালক গাড়িসহ পালিয়ে গেছেন।
নিহত দুই শিশুর মরদেহ স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একটি পরিবারের দুই শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যাবে কি না, আর কীভাবে সড়কে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন